তিস্তা ভাঙনে দুই দিনে বিলীন প্রায় অর্ধ কিলোমিটার বালুর বাঁধ

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় মাত্র দুই দিনের ভাঙনে তিস্তা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে স্থানীয়দের সহায়তায় গড়া বালুর বাঁধটি।
ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন।
স্থানীয়রা জানান, শুস্ক মৌসুমে তিস্তা নদী মরুভূমিতে পরিণত হলেও বর্ষার শুরুতে উজানের ঢলে ফুলে ফেঁপে উঠে হিংস্র রূপ ধারণ করে তিস্তা নদী। প্রতিবছর তীর ভেঙে বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়ে পথে বসে তিস্তাপাড়ারের হাজার হাজার পরিবার। জন্মলগ্ন থেকে তিস্তা নদী খনন না করায় সামান্য পানিতে দু’কুল উপচিয়ে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে। চরম দুর্ভোগে পড়ে তিস্তাপাড়ের মানুষ-জন। দুর্ভোগ লাঘবে নদী খনন করে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি করলেও তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি। নিজেদের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষায় উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের কুটিরপাড় গ্রামে স্থানীয় গ্রামবাসীর সহায়তায় প্রায় এক কিলোমিটার দৈর্ঘের একটি বালুর বাঁধ তৈরি করা হয়। স্থানীয়রা তাদের সামর্থ অনুযায়ী সহায়তা করে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যায়ে বাঁধটি নির্মাণ করেন। বাঁধ নির্মাণ হওয়ায় আশায় বুক বাঁধে নদী তীরবর্তি কুটিরপাড়, বালাপাড়া ও চৌরাহা এলাকার হাজার হাজার পরিবার। স্থানীয়দের সহায়তায় করা এ বাঁধটি গত দুই দিনে প্রায় অর্ধ কিলোমিটার বিলীন হয়েছে। বাঁধটি বিলীন হওয়ায় গত দুই দিনে প্রায় ১০টি পরিবার নদী ভাঙনের শিকার হয়ে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়েছেন। তারা তাদের ঘর বাড়ি ও আসবাবপত্র উঁচু রাস্তায় বা অন্যের উঠানে স্তুপাকারে রেখেছেন। জমির অভাবে তারা ঘর তুলতে পারছেন না। বাঁধটি এবং পাশের গ্রাম তিনটি রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে ১০ হাজার জিও ব্যাগ প্রয়োজন বলে স্থানীয়দের দাবি।
কুটিরপাড় এলাকার সাইফুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে গ্রামবাসী সহায়তা করে বালুর বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। বাঁধটি হওয়ায় আশা করেছি এ বছর আর নদী ভাঙনের মুখে পড়তে হবে না। পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করতে পারবো। কিন্তু বর্ষার শুরুতে পানির চাপে দুই দিনের ব্যাবধানে বালুর বাঁধটি বেশিরভাগ অংশই বিলীন হয়ে গেছে। বাঁধটি বিলীন হলে আমার বাড়ি নদীর মুখে পড়ে। তাই বাধ্য হয়ে ঘর বাড়ি সরিয়ে নিয়েছি। আজ সেখানে নদীর স্রোত বইছে। বাকি অংশটুকু রক্ষা করা সম্ভব না হলে বর্ষার আগে কুটিরপাড়, চৌরাহা ও বাদিয়ারটারী বিলীন হতে পারে।
ভাঙন এলাকা পরিদর্শন শেষে আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন বলেন, বালুর বাঁধটির অর্ধের বেশি বিলীন হয়েছে। বাকিটুকু রক্ষা করতে জিও ব্যাগ প্রয়োজন। যার চাহিদা পাঠাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে। অনেক বাড়ি নদী ভাঙনের মুখে পড়েছে। তাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ভাঙনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নির্দেশনা পেলে ভাঙন রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে নগদ অর্থ ও ঢেউটিন মজুদ আছে। ইউএনওরা প্রয়োজনে তা বিতরণ করবেন। বালুর বাঁধটি রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশনা দেওয়া আছে। নদী ভাঙনের সর্বশেষ তথ্য সার্বক্ষনিক মন্ত্রণালয়কে জানানো হচ্ছে।
বাংলার কথা/সিদরাতুল মোত্তাকিন/১০জুন, ২০২১

এই রকম আরও খবর

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn