ঝর্ণা রানীর ছেলেকে চাকরি দিলেন প্রধানমন্ত্রী

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp

বাংলার কথা ডেস্ক ০
কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় গত বছর ঈদের দিন জঙ্গি হামলায় নিহত ঝর্ণা রানী ভৌমিকের বড় ছেলে বাসুদেব ভৌমিককে চাকরি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকে সহকারী কর্মকর্তা হিসেবে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
রোববার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন। এ সময় কিশোরগঞ্জ-১ (কিশোরগঞ্জ সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, বাসুদেব ভৌমিকের বাবা গৌরাঙ্গ ভৌমিক, ছোট ভাই শুভদেব ভৌমিক এবং এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাসুদেব ভৌমিক জানান, জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম চাকরির জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করায় তার চাকরিটি হয়েছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, মায়ের আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি। সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কারণে জঙ্গিরা নির্মূল হচ্ছে। তারা পরাজিত হবে। এ দেশের মানুষ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন করেছে। এ দেশে জঙ্গিবাদের ঠাঁই হতে পারে না।
বাসুদেব ভৌমিক কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজ থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করেন। পড়ালেখা শেষ করে ঢাকার তেজগাঁও মহিলা কলেজে প্রভাষক পদে অস্থায়ী ভিত্তিতে চাকরি করেন। প্রায় তিন বছর এ কলেজে চাকরি করলেও তিনি এমপিওভূক্ত হতে পারেননি।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৭ জুলাই ঈদুল ফিতরে দেশের বৃহত্তম জামাত কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় হামলার চেষ্টা চালায় জঙ্গিরা। কিন্তু তল্লাশি চৌকির কারণে ভেতরে ঢুকতে না পেরে সেখানেই পুলিশের ওপর হামলা করে তারা। এতে পুলিশের দুই সদস্য নিহত হন। এই সময় দুই হামলাকারীর সঙ্গে পুলিশের বেশ কিছুক্ষণ গোলাগুলি হয়।
ঘটনাটি ঘটেছিল শোলাকিয়া ময়দানের পশ্চিম পাশে আজিমউদ্দিন হাইস্কুল সংলগ্ন এলাকায়। এটি আবাসিক এলাকা। সব বাড়িতেই ঈদ উপলক্ষে রান্নার প্রস্তুতি চলছিল। ঝর্ণা রানীর পরিবার হিন্দু ধর্মাবলম্বী হলেও তাদের বাড়িতে কখনো ঈদ আয়োজনে কমতি থাকে না। বড় ছেলে বাসুদেব ভৌমিক ঈদের ছুটিতে বাড়িতে। তার জন্য প্রিয় খাবার বানাতে ব্যস্ত ছিলেন ঝর্ণা রানী ভৌমিক। ছোট ছেলে শুভদেবও নানা বায়না ধরেছে বিশেষ কিছু খেতে। সকালের রান্না শেষ না হতেই দুপুরের রান্নার চিন্তায় ব্যস্ত ছিলেন ঝর্ণা রানী। এ সময় ছুটে আসা একটি বুলেট টিনের বেড়া ছিন্ন করে ঝর্ণা রানীর বুকে বিদ্ধ হয়। মুহূর্তেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে মারা যান এই গৃহিনী।
ঝর্ণার রানীর স্বামী গৌরাঙ্গ ভৌমিক শহরের একটি বিড়ির কারখানার অল্প বেতনের কর্মী। তার ছোট ছেলে ময়মনসিংহের মুকুল নিকেতনের আবাসিক ছাত্র। তার জন্য প্রতি মাসে সাড়ে ৭ হাজার টাকা করে পাঠাতে হয় গৌরাঙ্গ ভৌমিককে।
ওই ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পরিবারটিকে ২ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছিল। আর এক বছর পূর্তিতে গৌরাঙ্গ ভৌমিক গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ লাভের আশার কথা জানিয়েছিলেন।
বাংলার কথা/সাইফ/জুলাই ৩০, ২০১৭

এই রকম আরও খবর

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn