শনিবার , ১৫ অক্টোবর ২০২২ | ১৭ই মাঘ, ১৪২৯
  1. অর্থনীতি
  2. আন্তর্জাতিক
  3. খুলনা বিভাগ
  4. খেলাধুলা
  5. চট্টগ্রাম বিভাগ
  6. জাতীয়
  7. ঢাকা বিভাগ
  8. প্রচ্ছদ
  9. ফিচার
  10. বরিশাল বিভাগ
  11. বিনোদন
  12. মতামত
  13. ময়মনসিংহ বিভাগ
  14. রংপুর বিভাগ
  15. রাজনীতি

জেলা প্রশাসনের ‘স্বেচ্ছাচারিতার’ প্রতিবাদে বরগুনায় সংবাদ সম্মেলন

প্রতিবেদক
BanglarKotha-বাংলারকথা
অক্টোবর ১৫, ২০২২ ৩:৪৫ অপরাহ্ণ

নিউজ ডেস্ক :
বরগুনা পৌর শহরের শত বছরের ভূমি মালিকদের উচ্ছেদ করে খাস খতিয়ানে জমি অন্তর্ভুক্ত করার নামে জেলা প্রশাসনের স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে বরগুনা শহর বৈধ ভূমি রক্ষা আন্দোলন কমিটি।

শনিবার বেলা ১১টায় বরগুনা প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে শহরের কয়েকশ ব্যবসায়ী ও ভূমি মালিক সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে আলটিমেটাম দেন জেলা প্রশাসনকে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হুমায়ূন কবির, বরগুনার পৌর মেয়র কামরুল আহসান মহারাজ, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সরোয়ার টুকু, প্যানেল মেয়র ও পৌর কাউন্সিলর রইসুল আলম রিপন, জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক গ্রুপের সভাপতি গোলাম মোস্তফা কিসলুসহ শতাধিক ভূমি মালিক।

লিখিত বক্তব্যে ভূমি মালিকরা জানান, দীর্ঘ বছর ধরে আমরা বৈধভাবে বরগুনা শহরে বসবাস ও ব্যবসা-বাণিজ্য করে আসছি। আমাদের জমির দাখিলা কেটে খাজনাও দিচ্ছি। কিন্তু আকস্মিকভাবে ভূমি অফিসের কতিপয় অসৎ কর্মচারীর যোগসাজশে কয়েক বছর ধরে আমাদের খাজনা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সম্প্রতি বৈধ ভূমির মালিকদের নোটিশ দিয়ে এসব ভূমি সরকারি ১নং খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্তের অপচেষ্টা শুরু করে জেলা প্রশাসন। ভূমি মালিকরা ব্যাংক থেকে সিসি লোন নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। সেক্ষেত্রে ভূমির মালিকানা থাকা সত্ত্বেও প্রমাণ হিসেবে খাজনার হালনাগাদ দাখিলা ব্যাংকে জমা দিয়ে লোন নবায়ন করতে পারছেন না। দুই বছর করোনার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য মন্দাভাব হবার কারণে ব্যবসায়ীরা নিঃস্ব হয়েছেন। এরপর চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বব্যাপী আরেক দফা মন্দার প্রভাব পড়েছে। আমরা জানতে পেরেছি , সরকার বা প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কোনো ধরনের নির্দেশনা ছাড়াই জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান ও তার ভূমি অফিসের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মচারী বৈধ ভূমি মালিকদের জিম্মি করে অর্থ লুটপাটের জন্য প্রশাসনকে এ কাজে প্ররোচিত করেছে।

জেলা প্রশাসনের ‘স্বেচ্ছাচারিতার’ প্রতিবাদে সংবাদে সম্মেলনে কমসূচি ঘোষণা করা হয়। ১৮ অক্টোবর জেলা প্রশাসক কার্যালয় ঘেরাও, ১৯ অক্টোবর বরগুনা শহর বৈধ ভূমি রক্ষা আন্দোলন কমিটির প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ, ২৩ অক্টোবর সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে প্রেস ক্লাব চত্বরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ হবে।

অভিযোগের বিষয়ে বরগুনা জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান জানান, কোনো ব্যক্তি কার্যক্রম বা সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ হলে উপযুক্ত আদালতের কাছে প্রতিকার চাইতে পারেন। কিন্তু তারা তা না করে বিক্ষোভ, ঘেরাও এবং আলটিমেটাম দিয়ে রাষ্ট্রকে ভয় দেখিয়ে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করছেন। এই সম্পত্তি রাষ্ট্রের, জেলা প্রশাসক রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির কাস্টোডিয়ান। সরকারি সম্পত্তি রক্ষার জন্য জেলা প্রশাসক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে আইনগতভাবে এখতিয়ার সম্পন্ন।

তিনি আরও বলেন, অবৈধ দখলদাররা তাদের সপক্ষে কোনো দালিলিক প্রমাণাদি উপস্থাপন না করে জনগণকে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্ত করছেন। কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র সরকারি মোট ৪.৪৮ একর জমির অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। কিন্তু কতিপয় অবৈধ দখলদার ভিত্তিহীনভাবে ৩২ একর জমির বিষয় উত্থাপন করে নিজেদের দল ভারির জন্য বরগুনা শহরের সব সাধারণ ব্যবসায়ীদের আতঙ্কগ্রস্ত করে ফায়দা হাসিলে লিপ্ত হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, অবৈধ দখলদাররা ৬০ বছর জোর করে অন্যের জমি দখল ও আত্মসাৎ করে রাখতে পারলে সেই জমির মালিক তিনি হয়ে যাবেন মর্মে দাবি করেছেন। তবে এ ধরনের কোনো আইন বা বিধিবিধান নেই। অথচ বলা হয়েছে- জমির রেকর্ড এবং দলিল যার মালিকানাও তার।

সর্বশেষ - প্রচ্ছদ