আজ- শুক্রবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৪ই রজব, ১৪৪২ হিজরি
বাংলার কথা
Header Banner

জমি রেজিষ্ট্রি না করে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp


বাগমারা প্রতিনিধি o
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বড়বিহানালী ইউনিয়নে জমি রেজিষ্ট্রি করে দেওয়ার নাম করে টাকা নিয়ে প্রতারনা করছে এক প্রতারক। জমির পুরো টাকা নিয়ে এখন জমিটি রেজিস্ট্রি করে না দিয়ে নানান টালবাহানা করছে সেই প্রতারক। এখন সে জমি রেজিস্ট্রি করে না দিয়ে টাকাগুলো আত্মসাত করার জন্য উল্টো জমির ক্রেতাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিচ্ছে। ফলে নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন জমির বায়নাসূত্রে ক্রেতা বড়বিহানালী ইউপি’র বাগান্না গ্রামের মাহাতাবের পুত্র মাহমুদুল হাসান ডেভিড(২৫)। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গ্রাম্য মাতব্বরা নিম্পত্তির চেষ্টা করলেও প্রতারক একই গ্রামের জহুরুল ইসলাম তা অমান্য করে থানায় মিথ্যা মামলা সাজানোর ফাঁয়তারা করছে।
স্থানীয় গ্রামবাসী ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বড়বিহানালী ইউনিয়নের বাগান্না গ্রামের মাহাতাবের পুত্র মাহমুদুল হাসান ডেভিড বিগত ২০১৭ সালের দিকে একই গ্রামের মৃত সজিমুদ্দিনের পুত্র জহুরুলের কাছে তার বাড়ি সংলগ্ন পাহাড়পুর মৌজার ৭৪২ দাগের ১.২৫ শতক ধানী জমি ক্রয় করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে জমিটির মূল্য নির্ধারন বিষয়ে একমত হলে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে মাহমুদুল হাসান ডেভিট তিন দফায় জহুরুলকে ২২হাজার টাকা প্রদান করে। জমিটি জহুরুলের পৈত্রিক সূত্রের হওয়ায় এবং সেটির খারিজ না থাকায় পরে জহুরুল জমিটি খারিজ করার জন্য মাহমুদুল হাসান ডেভিটকে জমিটি খারিজ করার জন্য জমিটির দলিল সহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রদান করে। ওইসব কাগজপত্র নিয়ে ডেভিট জমিটি জহুরুলের নামে খারিজ করে দেয় এবং শর্ত মত জমিটি তার নামে রেজিষ্ট্রি করার জন্য তাগাদা দেয়। এতেই দেখা দিয়ে বিপত্তি। জমিটি জহুরুল ডেভিটকে রেজিষ্ট্রি করে আজ দিব কাল দিব বলে কালক্ষেপণ করতে থাকে। এর মাঝে গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ডেভিট একই গ্রামের প্রাক্তন শিক্ষক সেকেন্দার আলী, কৃষক আমজাদ হোসেন, রফিকুল ইসলাম সহ আরো গন্যমান্য ৫/৬ জন মিলে জহুরুলের বাড়িতে যায় এবং জমিটি রেজিষ্ট্রি করে দেওয়ার অনুরোধ জানায়। এখানেও টালবাহানা শুরু করে জহুরুল। এ নিয়ে ডেভিট ও জহুরুলের মধ্যে বাকবিতন্ডা লেগে গেলে গ্রামবাসীরা বিষয়টি মুঠোফোনে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক রেজাউল করিমকে অবহিত করে। এ সময় তিনি উভয়ের সাথে কথা বলে বিষয়টি মিমাংসা করে দেওয়ার আশ্বাস দিলে ডেভিট গ্রামবাসী সহ ফিরে আসে।
পরদিন ডেভিট জানতে পারে জহুরুল তাকে জমি রেজিষ্ট্রি করে না দিতে এমনকি টাকাও ফেরত না দিতে ষড়য়ন্ত্র মূলক ভাবে ডেভিট তার পিতা ও তার চাচার নামে বাগমারা থানায় একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছে। এতে জহুরুল তার স্ত্রীর শ্লীলতাহানিরও কাল্পনিক অভিযোগ করেছে পুলিশের কাছে।
এ বিষয়ে প্রাক্তন শিক্ষক সেকেন্দার আলী সহ গ্রামের একাধিক প্রবীন ব্যক্তিরা জানান, ওই দিন জহুরুলের স্ত্রীকে শ্লীলতাহানির কোন ঘটনাই ঘটেনি। জহুরুল টাকাগুলো আত্মসাত করার জন্যই স্ত্রীকে দিয়ে মিথ্যা মামলার ফাঁয়তারা করছে। তারা জহুরুলের ভগ্নিপতি আসাদুলও এই টাকা নেওয়ার বিষয়টি অবহিত বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে আসাদুলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিশ হাজার টাকায় জমিটি বিক্রি করতে জহুরুল প্রথমে রাজি হলেও পরে আরো দুই হাজার টাকা বেশি নেয়। তার পর সে জমিটি রেজিষ্ট্রি করে দিতে টালবাহানা করেছে আরো বেশি টাকা নিবে বলে। এ নিয়ে তার স্ত্রীকে শ্লীলতাহানীর কোন ঘটনাই ঘটেনি।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা জানান, অনেক দিন হলে জহুরুল টাকা গুলো নিয়েছে। এখন সে কেন জমি রেজিষ্ট্রি করে দিবে না। বিষয়টি নিয়ে উভয়কে নিয়ে বসার কথা হয়েছে। তার আগে ডেভিট সহ তার বাপ চাচার নামে নারী নির্যাতনের অভিযোগ হওয়ার বিষয়টি রহস্যজনক।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে জহুরুলের জানতে চাইলে তিনি জমিটি বিক্রির কথা স্বীকার করে বলেন, আমার সাথে তাদের বিশ হাজার টাকা দাম মিটেছে আমি মাত্র তের হাজার টাকা হাতে পেয়েছি। বাকি টাকা পেলে জমিটি রেজিষ্ট্রি করে দিব। টাকা পেলে জমি রেজিষ্ট্রি করে দিবেন তবে কেন তাদের নামে নিজের স্ত্রীর শ্লীলতাহানী করেছে বলে অভিযোগ দিতে গেলেন এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি কোন সদুত্তর করতে পারেননি।
এ বিষয়ে বাগমারা থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, ‘কোন কিছু হলেই নারী নির্যাতনের মামলা দিবে আর পুলিশ সেটা নিবে বিষয়টি এত সহজ না। সেখানে কি ঘটেছে না ঘটেছে বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বাংলার কথা/মাহফুজুর রহমান প্রিন্স/সেপ্টেম্বর ১১, ২০২০

এই রকম আরও খবর

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn