আজ- শনিবার, ১৫ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৩রা শাওয়াল, ১৪৪২ হিজরি
বাংলার কথা
Header Banner

চিত্রনায়ক ওয়াসিম মারা গেছেন

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp

বাংলার কথা ডেস্ক ০

ঢাকাই সিনেমার সত্তর-আশির দশকের অ্যাকশন এবং ফোক ফ্যান্টাসি চিত্রনায়ক ওয়াসিম (৭৪) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রাজধানীর শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শনিবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটে দেড়শ সিনেমায় অভিনয় করা এই নায়কের মৃত্যু হয়।

 

রাত ১টার দিকে এনটিভি অনলাইনকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালটির ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডাক্তার জয়ন্ত নায়ারণ শর্মা। তিনি বলেন, ‘উনাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে আমরা ইসিজি করি, তারপর উনাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। কী কারণে উনার মৃত্যু হয়েছে সে ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত না। তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন না। বার্ধক্যজনিত কারণে তার মৃত্যু হতে পারে। তবে তার কিডনির সমস্যা ও ডায়াবেটিস ছিল বলে আমরা পরিবারের কাছ থেকে জেনেছি।’

 

চিত্রনায়ক ওয়াসিম প্রসঙ্গে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান এনটিভি অনলাইনকে জানিয়েছেন, তিনি (ওয়াসিম) নানা শারিরীক জটিলতায় ভুগছিলেন। বেশ কিছুদিন অসুস্থ ছিলেন।

 

প্রখ্যাত চিত্র পরিচালক এস এম শফীর হাত ধরে চলচ্চিত্র জগতে অভিষেক ঘটে ওয়াসিমের। ১৯৭২ সালে শফী পরিচালিত ‘ছন্দ হারিয়ে গেলো’ চলচ্চিত্রের সহকারী পরিচালক হন তিনি। এতে ছোট একটি চরিত্রে অভিনয়ও করেন। ১৯৭৪ সালে আরেক প্রখ্যাত চিত্রনির্মাতা মহসিন পরিচালিত ‘রাতের পর দিন’ চলচ্চিত্রে প্রথম নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ তার। চলচ্চিত্রটির অসামান্য সাফল্যে রাতারাতি সুপারস্টার বনে যান তিনি। তবে ১৯৭৬ সালে মুক্তি পাওয়া এস এম শফী পরিচালিত ‘দি রেইন’ সিনেমা তাঁকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়।

 

হাতেগোনা অল্প কিছু সিনেমা ছাড়া তাঁর প্রতিটি সিনেমাই সুপারহিট হয়েছিল। ১৯৭৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত চলচ্চিত্রে শীর্ষ নায়কদের একজন ছিলেন তিনি।

 

স্ত্রী-কন্যার অকালমৃত্যুতে সিনেমা ছেড়েছিলেন নায়ক ওয়াসিম

দেড়শ সিনেমার নায়ক ছিলেন তিনি। সত্তর-আশির দশকে ঢাকাই সিনেমার অ্যাকশন এবং লোক ফ্যান্টাসি নায়ক হিসেবে অপ্রতিদ্বন্দ্বী মনে করা হত তাঁকে। হাতেগোনা অল্প কিছু সিনেমা ছাড়া এই নায়কের প্রতিটি সিনেমাই হয়েছিল সুপারহিট। ১৯৭৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত শীর্ষ নায়কদের একজন ছিলেন তিনি। যার প্রসঙ্গে এত কথা তিনি চিত্রনায়ক ওয়াসিম।

 

রাজধানীর শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শনিবার দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটে এই নায়কের মৃত্যু হয়েছে।

 

এমন সফল ক্যারিয়ারের চিত্রনায়ক এক সময়ে এসে সিনে পর্দার দুনিয়াকে বিদায় জানিয়েছিলেন। আর এই বিদায়ের কারণ হিসেবে ছিল তাঁর স্ত্রী-কন্যার অকাল মৃত্যু।

 

গেল বছর এক সাক্ষাৎকারে এই চিত্রনায়ক সেই গল্পে জানিয়েছিলেন, ২০০০ সালে তাঁর স্ত্রীর অকাল মৃত্যু হয়। সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই ২০০৬ সালে ওয়াসিমের কন্যা বুশরা আহমেদ চৌদ্দ বছর বয়সে স্কুলের পাঁচতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করে। মূলত এই দুই ঘটনা ওয়াসিমের জীবনে বিষাদ নেমে আসে। সব কিছু থেকে দূরে সরে যান তিনি। বেছে নেন একাকী জীবন।

 

ওয়াসিম : বডি বিল্ডিংয়ে খেতাব জয়ী অ্যাকশন হিরো

সত্তর-আশির দশকে ঢাকাই সিনেমার অ্যাকশন হিরো হিসেবে অপ্রতিদ্বন্দ্বী মনে করা হত চিত্রনায়ক ওয়াসিমকে। তবে শুধু লাইট, ক্যামেরা আর অ্যাকশনের দুনিয়ায় নয় বাস্তব জীবনেও এই চিত্রনায়ক ছিলেন শক্তিশালী একজন। স্কুল জীবন থেকে মনোযোগী ছিলেন শরীরচর্চায়।

 

কলেজে পড়া অবস্থায় নাম করেছিলেন বডি বিল্ডার হিসেবে। শুধু নাম না, ১৯৬৪ সালে বডি বিল্ডিংয়ের জন্য মি. ইস্ট পাকিস্তান খেতাব অর্জন করেছিলেন তিনি। গেল বছর এক সাক্ষাৎকারে এমন তথ্যই জানিয়েছিলেন দেড়শ সিনেমায় অভিনয় করা ওয়াসিম।

 

নায়ক ওয়াসিমের পুরো নাম মেজবাহ উদ্দীন আহমেদ। তাঁর উল্লেখযোগ্য সিনেমার তালিকায় আছে দি রেইন, ডাকু মনসুর, জিঘাংসা, কে আসল কে নকল, বাহাদুর, দোস্ত দুশমন, মানসী, দুই রাজকুমার, সওদাগর, নরম গরম, ইমান, রাতের পর দিন, আসামি হাজির, মিস লোলিতা, রাজ দুলারী, চন্দন দ্বীপের রাজকন্যা, লুটেরা, লাল মেম সাহেব, বেদ্বীন, জীবন সাথী, রাজনন্দিনী, রাজমহল, বিনি সুতার মালা, বানজারান, মিস লোলিতাসহ আরো বেশ কিছু সিনেমা।

সূত্র: এনটিভি অনলাইন

 

বাংলার কথা/এপ্রিল ১৮, ২০২১

 

 

এই রকম আরও খবর

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn