চারঘাটে কিন্ডারগার্টেন স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষকদের মানবেতর জীবনযাপন


মোজাম্মেল হক, চারঘাট (রাজশাহী) ০
সারা দেশের মতো রাজশাহীর চারঘাটে করোনাভাইরাস রোগ প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাময়িক বন্ধ রয়েছে। ফলে অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি উপজেলার কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। কিন্ডারগার্টেন স্কুলের সঙ্গে জড়িত শিক্ষকদের আয়-উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

উপজেলার চারঘাট, সরদহ, ইউসুফপুর ও নন্দনগাছিতে প্রায় ১৪টি কিন্ডারগার্টেন স্কুল রয়েছে। প্রায় প্রতিটি স্কুলে কেজি শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। শিক্ষা অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়ে এসকল কির্ডারগার্টেন স্কুলে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয় বলে জানিয়েছেন নুরুল মেমোরিয়াল একাডেমীর প্রধান শিক্ষক মোঃ সাইদুর রহমান।

তিনি বলেন, পাঠদানের অনুমতির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য সরকার প্রয়োজনীয় বই সরবরাহ করে থাকে। কিন্তু করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি উপজেলায় আমাদের সকল কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো গত মার্চ মাস থেকে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। স্কুলের অধিকাংশ শিক্ষকগণই স্কুলের শিক্ষকতা পেশার উপর নির্ভরশীল। স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকার ফলে শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত মাসিক বেতন নেওয়া হয় না। এর ফলে শিক্ষকদের বেতন দেয়া বন্ধ রয়েছে।

একই কথা বলেন সরদহ মডেল স্কুলের পরিচালক সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, উপজেলার ১৪টি স্কুলে প্রায় ৩ হাজার ৫শ’ ছাত্র-ছাত্রী ও ৩শ’ শিক্ষক-শিক্ষিকা কর্মরত রয়েছে। শিক্ষকদের অধিকাংশ এই শিক্ষকতা পেশার উপর অর্জিত আয়ে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করে থাকে। প্রথম কয়েক মাস স্কুল কর্তৃপক্ষ কর্মরত শিক্ষকদের সহযোগিতা করলেও এখন তা আর সম্ভব হয়ে উঠছে না। ফলে অনেকে সংসারের খরচ যোগান দেয়ার জন্য অন্যের জমিতে কাজ করছেন।

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত সরকার ঘোষিত প্রণোদনার জন্য শিক্ষকদের আর্থিক সহায়তার জন্য গত মার্চ মাসে উপজেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত কোন সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে জানান নন্দনগাছি প্রি ক্যাডেট স্কুলের প্রধান শিক্ষক মফিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, স্বল্প পরিসরে হলেও আমাদের স্কুলে পাঠদানের অনুমতি দেয়া হোক। অথবা শিক্ষকদের প্রণোদনার আওতায় আর্থিক সহায়তার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করার জন্য তিনি উপজেলা প্রশাসনকে অনুরোধ জানান।

এব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রশিদা ইয়াসমিন বলেন, কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষকদের আর্থিক সহযোগিতার বিষয়ে কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য আমাদের কাছে নেই। তবে গত রমজান মাসে উপজেলা প্রশাসনের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে ৫টি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের নামের তালিকা দেয়া হয়েছিল।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দা সামিরা বলেন, আমরা ইতিমধ্যে কিছু সংখ্যক স্কুলকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি অনুদান দিয়েছি। পর্যায়ক্রমে প্রত্যেকটি স্কুলে সহযোগিতা দেয়া হবে বলে তিনি জানান।

বাংলার কথা/অক্টোবর ১৫, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Follow by Email
%d bloggers like this: