গোদাগাড়ীতে শিক্ষা বোর্ড ঘোষিত ফলাফলের তলানীতে নামিদামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

হায়দার আলী, গোদাগাড়ী (রাজশাহী) ০

রবিবার সারাদেশে একযোগে সেকেন্ডারী স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত ফলাফলে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড রাজশাহীতে পাসের হার ৯০ দশমিক ৩৭ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৬ হাজার ১৬৭ জন। তবে জেলার গোদাগাড়ী উপজেলায় কেন্দ্রধারী স্কুলগুলো পাসের ফলাফলে শিক্ষা বোর্ডের তলানীতে অবস্থান করছে।

গোদাগাড়ী সরকারী স্কুল এন্ড কলেজ (কেন্দ্র কোড ১১৬) থেকে ১৫৭ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ১৩৪ জন, পাসের হার ৮৫ দশমিক ৩৫ ভাগ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৬ জন, ফেল করেছে ২৩ জন।

প্রেমতলী সুকবাসিয়া উচ্চ বিদ্যালয় (কেন্দ্র কোড ১১৭) থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় ৯৫ অংশগ্রহণ করে ৮০ জন পাস করেছে। পাসের হার ৮৪ দশমিক ২১ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০ জন, ফেল করেছে ১৫ জন।

কাঁকনহাট উচ্চ বিদ্যালয় (কেন্দ্র কোর্ড ১১৮) থেকে এসএসসি পরীক্ষায় ১১৯ জন অংশগ্রহণ করেছিল। পাস করেছে ৯৩ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৪ জন, ফেল করেছে ২৬ জন। পাসের হার ৭৮ দশমিক ১৫ ভাগ।

আইহাই উচ্চ বিদ্যালয় (কেন্দ্র কোড ১১৯) থেকে ১৩৭ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ১০৮ জন, পাসের হার ৭৮ দশমিক ৮৩ ভাগ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন, ফেল করেছে ২৯ জন।

পাকড়ী উচ্চ বিদ্যালয় (কেন্দ্র কোড ১২০) থেকে ১১১ জন পরীক্ষা দিয়ে ৮৬ জন পাস করেছে, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। পাসের হার ৭৭ দশমিক ৪৮ ভাগ।

অন্যদিকে, কেন্দ্র ছিলো না এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাসুদেবপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১১৪ জন পরীক্ষা দিয়ে সবাই পাস করেছে, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৩ জন, কেউ ফেল করেনি।

মহিশালবাড়ী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে ৯৮ জন ছাত্রী পরীক্ষা দিয়ে ২৪ জন জিপিএ-৫সহ ৯৬ জনই পাশ করেছে, পাসের হার ৯৭ দশমিক ৯৬ ভাগ।

সুলতানগজ্ঞ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৫৪ জন পরীক্ষা দিয়ে ১৪৩ জন পাস করেছে, পাসের হার ৯২ দশমিক ৮৬ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৬ জন ফেল করেছে ১১ জন।

দিগরাম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৯২ পরীক্ষা দিয়ে ৮৯ জন পাস করেছে, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২১ জন, ফেল করেছে ৩ জন, পাসের হার ৮০ দশমিক ৭৪ ভাগ।

আল ইসলা ইসলামী একাডেমী থেকে ৮৬ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ৭৪ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২১ জন, ফেল করেছে ১২ জন, পাসের হার ৮৬ দশমিক ০৫ ভাগ।

পিরিজপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৪০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে ১৩২ জন পাস করেছে, পাসের হার ৯৮ দশমিক ২৯ ভাগ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০ জন, ফেল করেছে ৮ জন।

রাজাবাড়ী হাট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৭৭ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ১৪৯ জন, পাসের হার ৮৪ দশমিক ১৮ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৪ জন, ফেল করেছে ২৮ জন।

গোদাগাড়ী আ.ফ.জি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে ৯০ জন পরীক্ষা দিয়ে ১৩ জন জিপিএ-৫সহ পাস করেছে ৮৯ জন, ফেল করেছে ১ জন, পাসের হার ৯৮ দশমিক ৮৯ ভাগ।

প্রেমতলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩৬ জন পরীক্ষা দিয়ে ৩ জন জিপিএ-৫ সহ পাস করেছে ৩৪ জন, ফেল করেছে ২ জন। পাসের হার ৯৪ দশমিক ৪৪ ভাগ।

রিশিকুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২১ জন পরীক্ষা দিয়ে ২০ জন পাস করেছে, কেউ জিপিএ-৫ পায়নি, ফেল করেছে ১ জন, পাসের হার ৯৫ দশমিক ২৪ ভাগ।

ভাটোপাড়া বালিকা  উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪৩ জন পরীক্ষা দিয়ে ৪০ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯জন, ফেল করেছে ৩ জন। পাসের হার ৯৩ দশমিক ০২ ভাগ।

বাসুদেবপুর শহিদুন্নেসা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০ জন পরীক্ষা দিয়ে ১৮ জন পাস করেছে, কেউ জিপিএ-৫ পায় নি, ফেল করেছে ২ জন, পাসের হার ৯০ দশমিক ০০ ভাগ।

হুজরাপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৫৬ পরীক্ষা দিয়ে ৫২ জন পাস করেছে, কেউ জিপিএ-৫ পায়নি। পাসের হার ৯২ দশমিক ৮৬ ভাগ।

মাটিকাটা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৫১ জন পরীক্ষা দিয়ে ৪ জন জিপিএ-৫সহ পাস করেছে ৪৫ জন। পাসের হার ৮৮ দশমিক ২৪ ভাগ। ফেল করেছে ৬ জন।

চর আষাড়িয়াদহ কানাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮১ পরীক্ষা দিয়ে ৬৫ জন পাস করেছে, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন, ফেল করেছে ১৬ জন, পাসের হার ৮০ দশমিক ২৬ ভাগ।

পালপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৭৯ জন পরীক্ষা দিয়ে ৬৬ জন পাস করেছে, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন, ফেল করেছে ১৩ জন, পাসের হার ৮৩ দশমিক ৫৪ ভাগ।

এছাড়া পাকড়ী বালিকা উচ্চ ১১ জন পরীক্ষা দিয়ে ৭ জন পাস করেছে।

ললিতনগর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮৬ জন পরীক্ষা দিয়ে ৫০ জন পাস করেছে, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ জন ফেল করেছে ৩৭ জন।

গোগ্রাম স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ৫২ জন পরীক্ষা দিয়ে ৪ জন জিপিএ-৫সহ পাস করেছে ৪৩ জন, ফেল করেছে ৯ জন।

গোগ্রাম আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩৭ জন পরীক্ষা দিয়ে ২৮ জন পাস করেছে, ফেল করেছে ৯ জন, জিপিএ-৫ কেউ পায়নি।

উত্তরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪৭ জন পরীক্ষা দিয়ে ৪১ জন পাস করেছে, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩জন, ফেল করেছে ৬ জন।

গুনিগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২৬ জন পরীক্ষা দিয়ে ১৬ জন পাস করেছে, ফেল করেছে ১০ জন।

হরিণ বিসকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪৬ জন পরীক্ষা দিয়ে ২৯ জন পাস করেছে, ফেল করেছে ১৭ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

সোনাদীঘি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩৭ জন পরীক্ষা দিয়ে ২৩ জন পাস করেছে, ফেল করেছে ১৪ জন, কেউ জিপিএ-৫ পায়নি।

সেকেরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে থেকে ২৬ জন পরীক্ষা দিয়ে ২৫ জন পাস করেছে, ফেল করেছে ১ জন, কেউ জিপিএ-৫ পায়নি।

বলিয়াডাইং উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮২ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ৫৫ জন, ফেল করেছে ২৭ জন, কেউ জিপিএ-৫ পায়নি।

রাজাবাড়ীহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬২ জন পরীক্ষা দিয়ে ৪৫ জন পাস করেছে, ফেল করেছে ১৭ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।

বিড়ইল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪২ জন পরীক্ষা দিয়ে ৩১ জন পাস করেছে। ফেল করেছে ১১ জন, কেউ জিপিএ-৫ পায়নি।

সৈয়দপুর মঞ্জু উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩৩ জন পরীক্ষা দিয়ে ২৪ জন পাস করেছে, ফেল করেছে ৯জন, কেউ জিপিএ-৫ পায়নি।

জয়রামপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২৬ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে  ২১ জন, ফেল করেছে ৫ জন, কেউ জিপিএ-৫ পায়নি।

ঝিকড়াপাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৫২ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ৪৬ জন, ফেল করেছে ৬ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

কাঁকনহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪৩ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ২৫ জন পাস করেছে, ফেল করেছে ১৮ জন, কেউ জিপিএ-৫ পায়নি।

কাদমা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪০ জন পরীক্ষা দিয়ে ২৮ জন, ফেল করেছে ১২ জন, কেউ জিপিএ-৫ পায়নি।

মান্ডাইল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৭০ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ৫২ জন, ফেল করেছে ১৮ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

বিশ্বনাথপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৫৮ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ৫৩ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন, ফেল করেছে ৫ জন।

মাছমারা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬৪ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ৫৮ জন, জিপিএ-৫ ১জন, ফেল করেছে ৬জন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা আফিসার দুলাল আলম বলেন, গোদাগাড়ী সার্বিক ফলাফল ভাল হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো জিপিএ-৫ বেশি পেলেও পাসের হারের দিকে পিছিয়ে আছে, আগামীতে সমস্যা দূর হবে আশা করি।

বাসুদেবপুর  উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মজিবুর রহমান বলেন, তাদের স্কুলের ভাল সাফল্যের মূলমন্ত্র হচ্ছে সরকারি বিধি মোতাবেক বিদ্যালয়ের দুর্বল ছাত্রীদের জন্য অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা, আইনশৃংখলা, সময়ানুবর্তিতা, দায়িত্ববোধ, স্কুলের নিজস্ব পঠদান ও পরীক্ষা পদ্ধতি, বার্ষিক পাঠপরিকল্পনা, পাঠটিকা মোতাবেক পাঠদান করা। অভিভাবক ও শিক্ষকদের নিয়ে ২ মাস পর  পর  সভা করা। ছাএী – শিক্ষক-অভিভাবকদের সাথে সেতু বন্ধন থাকলেই এ ধরনের ফলাফল করা সম্ভব আমি মনে করি।

বাংলার কথা/জুন ০১, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Follow by Email