গোদাগাড়ীতে পাটের বাম্পার ফলন, দামও পাচ্ছে কৃষকেরা 

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
মোঃ হায়দার আলী, গোদাগাড়ী (রাজশাহী) ০
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে এবছর পাটের বাম্পার  ফলন হয়েছে। দামও ভালো পাচ্ছে কৃষক। পাট কেটে পানিতে জাগ দেওয়ার পর পাটের সোনালী আঁশ ছড়ানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে শ্রমিকরা। এক সময় বলা হতো ‘সোনালি আঁশ, কৃষকের গলার ফাঁস’। এখন সে অবস্থা আর নেই। পাটের ন্যায্য দাম পাওয়ায় সোনালি আঁশ পাটের সুদিন ফিরে আসতে শুরু করছে।
ছড়ানো পাট রোদে ভালো করে শুকানোর পর  কৃষকরা বিক্রি করতে হাট বাজারে নিয়ে যাচ্ছে। পাটের মৌসুমের শুরুতেই ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা দারুন খুশি।
গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বছর উপজেলায় পাটের আবাদ হয়েছিল নয়শ’ হেক্টর জমিতে। গোদাগাড়ীতে চলতি মৌসুমে পাট চাষ হয়েছে এক হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণ জমিতে পাট চাষ হয়েছে । তবে কিছু জমির পাট কৃষক শাক হিসেবে কেটে বিক্রি করেছে। সেখানেও তারা ভালো লাভবান হয়েছে। কেননা এক আঁটি পাট শাক বিক্রি হয়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়।
জমি থেকে পাট কেটে জাগ দেয়ার পর পাটের আঁশ আলাদা করে শুকিয়ে বিক্রিও করছে কৃষকরা। শুধু উপজেলার চর আষাঢ়িয়াদহ ইউনিয়নে পাটের চাষ হয়েছে প্রায় ৬৫০ হেক্টর জমিতে।
চর আষাঢ়িয়াদহ ইউনিয়নের পাটচাষী জোহরুল ইসলাম জানান, এবার ১০ বিঘা জমিতে  তিনি পাট চাষ করেছেন। জমির পাট কেটে জাগ দিয়েছেন। কিছু জাগ তুলে আঁশ ছড়ানো শুরু করে দিয়েছেন। তার পাট চাষ করতে বিঘা প্রতি সাড়ে ছয় হাজার  টাকা করে খরচ হয়েছে। আর বিঘা প্রতি পাট হয়েছে আট থেকে ১০ মন করে।
বিদিরপুর এলাকার পাটচাষি শরিফুল ইসলাম জানান, গত বছর পাট চাষ করে কৃষকরা লাভবান  হয়েছিল। এবার পাটের বাম্পার ফলন হওয়ায় মৌসুমের শুরুতে উৎপাদিত পাটের দাম বেশি পেয়ে কৃষকরা বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে।  তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পাট প্রতি মণ তিন হাজার একশ’ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলার বিদিপুরহাটে গিয়ে দেখা যায় পাটচাষিরা গরু-মহিষের গাড়ি, টেম্পু, অটোতে বোঝাই করে বিক্রির জন্য পাট নিয়ে যাচ্ছে। বিক্রি করে দাম ভালো পাওয়ায় তারা দারুন খুশি। পাট বিক্রির টাকা দিয়ে তারা ছেলে মেয়েদের জন্য নতুন জামা ক্রয় করছেন। কেউ মাছ, মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ক্রয় করছেন। সার, কীটনাশকের দোকানের বকেয়া পরিশোধ করছেন। পাটের আড়তগুলি বেশ জমজমাটভাবে চলছে। কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শ্রমিক, মালিকরা কাজ করছে। ক্রয়কৃত পাট বান্ডিল করে  ট্রাক বোঝেই করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে।
পাট চাষীরা বলেন , এবছর বন্যা বৃষ্টি হওয়ায় খালে-বিলে পানির অভাব নেই। এসব জায়গায় পানি থাকায় পাট জাগ দিতে তেমন কোন সমস্যা হয়নি। আঁশের গুণগত মান ভালো হচ্ছে। অন্যান্য বছর পাট জাগ দেওয়া নিয়ে বেশ সমস্যা হয়েছে।
জমিতে পাট চাষ করে সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতি বিঘা জমিতে তাদের শুধু সোনালী আঁশ বিক্রি করেই ১০ হাজার টাকা থেকে ১২ হাজার টাকা লাভ হচ্ছে। বাড়তি হিসাবে পাওয়া যায় পাটের খড়ি। সেগুলো বাড়িতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার অথবা বিক্রি করা যায়। এগুলির চাহিদা ও দাম ভালো রয়েছে।
গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি  কর্মকর্তা মোঃ সফিকুল ইসলাম বলেন, এ বছর মৌসুমের শুরুতে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। অনেক কৃষক সঠিক সময়ে বীজ বপণ করতে পারায় গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৭০ হেক্টর বেশি জমিতে পাট চাষ হয়েছে। বাজারে পাটের দাম ভালো হওয়ায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছে। আগামী বছর এ অঞ্চলে আরও বেশি জমিতে পাট চাষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
বাংলার কথা/সেপ্টেম্বর ০২, ২০২১

এই রকম আরও খবর

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn