গোদাগাড়ীতে কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজসহ সবজির মূল্য লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি 

গোদাগাড়ী প্রতিনিধি o
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ২১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে কাঁচা মরিচ। একই সাথে পাল্লা দিয়ে কেজি প্রতি ১০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে আলু পেঁয়াজ ও সবজির দাম। অর্থনীতির ভাষায় বাজার নিয়ন্ত্রণ বলে একটি কথা থাকলেও  রহস্যজনক কারণে সেটা গোদাগাড়ীতে সেটা নেই বললেই চলে। দোকানে দ্রব্যের মূল্য তালিকা ঝুলিয়ে  রাখার নিয়ম থাকলেও সেটা মানা হচ্ছে না স্থানীয় দোকানগুলিতে।
শুক্রবার (৯  অক্টোবর) গোদাগাড়ী  পৌরসভার মহিশালবাড়ী, রেলওয়ে বাজার, গোদাগাড়ী, কাঁকনহাট, প্রেমতলী, রাজাবাড়ি, হাটপাড়া, বাসুদেবপুর প্রভূতি বাজারে সবজির বাজারে গিয়ে দেখা যায় প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকা কেজি দরে। অথচ এক-দু’দিন আগেও কাঁচা মরিচ খুচরা বাজারে বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে। এছাড়াও একদিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি আলুর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ১০ টাকা।
গত বুধবার যে আলু ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, সেই আলু প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৫/৪৮ টাকা কেজি দরে। প্রতি কেজি পেঁয়াজ (দেশি) বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা থেকে ১১০ টাকা। বেগুন প্রতি কেজি ৬০/৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
অথচ গত বুধবার প্রতি কেজি পেঁয়াজের মূল্য ছিল ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকা। পটল ৩০ টাকার পটল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা কেজি, করলা বিক্রি  হচ্ছে ১০০ টাকা ফুলকপি ৯০ টাকা, বাধা কপি ৫০ টাকা কেজি দরে। মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। একই সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে  মুলা ঢেঁড়সসহ অন্যান্য সবজির দাম।সবজির খুচরা বিক্রেতারা আব্দুল কুদ্দুস বলছেন পাইকারী বাজারে আমদানী কম ও মূল্য বেশি হওয়ায় তারা বেশি দামে বিক্রি করছেন। এবার বৃষ্টি বেশী হওয়ায় শাঁক সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
সবজির পাইকারী বাজারে গিয়ে দেখা যায় সেখানে চাহিদার তুলনায় আলু পিয়াজসহ সবজির আমদানী অনেক কম। পাইকারী বিক্রেতারা বলছেন অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারনে কাঁচা মরিচসহ করলা বেগুনসহ সবজির গাছ মরে গেছে, একারনে বাজারে সবজির আমদানী কমে গেছে, দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।ব্যবস্যায়ীরা বলেন পিঁয়াজের আমদানী (এলসি) বন্ধ হওয়ায় পিঁয়াজের দাম বৃদ্ধি হতে শুরু করেছে।
তারা বলেন এক শ্রেনীর অসাধু মজুদদার রাজশাহীর আশপাশের কোল্ডষ্টোরেজে প্রচুর পরিমানে আলু মজুদ রাখলেও, সেই আলু বাজারে ছাড়ছেনা, যার ফলে দিন দিন আলুর মূল্য বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। এদিকে হঠাৎ সবজিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায়, বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ। তারা বলছেন সারা দিনে যে আয় হয, তা দিয়ে তারা পরিবারের চাহিদা অনুযায়ী খাদ্য যোগাড় করতে পারছেনা। এতে সংসার পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে তাদের।
এই বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলমগীর হোসেনের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন
পেঁযাজ ৯৫/১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে,  শীঘ্রই অসাধু ব্যবস্যায়ী ও মজুদদারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে এবং একই সাথে সবজির পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতারা যাতে ভোক্তাদের ক্রয় মূল্য ও বিক্রয় মুল্য নিশ্চিত করে সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও জানান তিনি ।
বাংলার কথা/হায়দার আলী/অক্টোবর ০৯, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Follow by Email
%d bloggers like this: