কাঁকনহাটে নৃ-গোষ্ঠি সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক উৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক ০

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি সম্প্রদায়ের সংগঠন ‘মানওয়া’র দশম প্রতিষ্ঠবার্ষিকী ও সহরাই বংগা উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহি সহরাই ও লাঁগড়ে প্রতিযোগিতা এবং জাতি বৈচিত্র সাংস্কৃতিক উৎসব শুরু হয়েছে। রাজশাহীর গোড়াদাগাড়ী উপজেলার কাঁকনহাট পৌরসভা চত্তরে সপ্তাহব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কাঁকহাটের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি সম্প্রদায়ের নেতা মুক্তিযোদ্ধা মানতান বিশ্বনাথ হেমব্রম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গোদাগাড়ি-তানোর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুর রশিদ ও কাঁকনহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল মজিদ।

আয়োজকরা জানান, এবারের উৎসবে থাকছে বংগান/পূজা, প্রতিযোগীতা, দারাম (অভ্যর্থনা), ডকুমেন্টরি প্রদর্শনী, আলোচনা সভা, সম্মাননা,  পুরষ্কার প্রদান, বাঙ্গালী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠিদের সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মশালা, বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতি শীর্ষক সেমিনার, পাহাড় ও সমতলের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, লোক সংগীতের আখড়া, নাটক ও ভারত-বাংলাদেশের খ্যাতনামা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি শিল্পীদের পরিবেশনায় রকমারি অনুষ্ঠান। সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠান চলবে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত। উৎসবে দেশের বিভিন্ন জেলা ও ভারত থেকে আসা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নিচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ‘মানওয়া’ (সাংস্কৃতিক সচেতনতায় একটি বিকল্প ধ্বনি) নামের সংগঠনটি ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চালাচ্ছে। নিজস্ব উদ্যোগে সাংস্কৃতিক সচেতনতার মাধ্যমে সমাজের নানামূখী উন্নয়নমুলক কর্মসূচি পালন করছে সংগঠনটি। এর মধ্যে সমাজ ও সামাজিক অবকাঠামোর উন্নয়ন, নেতৃত্বের উন্নয়ন, তথ্য সেবা, স্বাস্থ্য সেবা, পরিবার পরিকল্পনা, সামাজিক দায়বদ্ধতা মুক্ত ও দারিদ্রতা নিরসনে সাংস্কৃতিক কর্মপরিকল্পনার আওতায় নিয়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন, বিশেষ করে সকল নৃ-গোষ্টির ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিনীতি, তথা সংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক চর্চা এবং স্বজাতীয় জিনিসপত্রের ব্যবহারে উৎসাহ ও সহায়তা দানের মাধ্যমে নান্দনিক বৈচিত্র্যকে টিকিয়ে রাখার দৃঢ় প্রচেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি। এছাড়া বিলুপ্তপ্রায় অবহেলিত নৃ-গোষ্টির ভাষা ও সংস্কৃতির যথাযথ মূল্যায়ন এবং তা সংরক্ষণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে সংগেঠনের কর্মীরা।

বাংলার কথা/অক্টোবর ১৬, ২০১৫

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Follow by Email