কবি আলম সিদ্দিকীর নামকাব্য গ্রন্থের পাঠ উন্মোচন

শাহাদাৎ সরকার ০
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শব্দকলার আয়োজনে রাজশাহী নগরীর পরিচয় প্রাঙ্গণে কবি আলম সিদ্দিকীর নামকাব্য গ্রন্থের পাঠ উন্মোচিত হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর)। অনুষ্ঠানে সভাপতি ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব গবেষক ও ছড়াকার প্রফেসর ড. কাজী মোস্তাফিজুর রহমান।

শব্দকলার পরিচালক, রাবি প্রফেসর, কবি ও গবেষক ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি সায়ীদ আবুবকর, কবি আবুবকর মুহাম্মদ সালেহ, কবি মুকুল কেশরী, কবি জামাল দ্বীন সুমন, কবি ও গবেষক, ড. আমিনুল ইসলাম, সাহিত্য সমালোচক ড. এম এ সবুর, কবি জেবুননেছা মুকুল, কবি ও গবেষক ড. ফজলুল হক তুহিন, কবি-গল্পকার মঈন শেখ, কবি-গীতিকার একে আজাদ, কবি-গীতিকার আলমগীর কবির হৃদয়, কবি মুহাম্মদ আলী প্রমুখ।

বক্তাগণ বলেন, কবি আলম সিদ্দিকী’র নামকাব্য গ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যে একটি অনন্য সংযোজন। বাংলা কবিতা কিংবা ছড়ার জগতে এমন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন গ্রন্থ এখনও চোখে পড়েনি। এ গ্রন্থে দুশো বিষয়ের নাম নিয়ে দুশোটি নামকাব্য স্থান পেয়েছে। বিভিন্ন প্রাণি, সৃষ্টিজগতের প্রাকৃতিক বৈচিত্র, নিত্য প্রয়োজনীয় বস্তু, লৌকিক-অলৌকিক বিষয়াবলি, স্থাপনা, ঐতিহাস-ঐতিহ্যের স্বারক, বিশ্বাসের নানাবিধ বিষয়সহ বিভিন্ন মজাদার বিষয়ের সমাবেশ ঘটেছে এ নামকাব্যে।

বক্তাগণ আরো বলেন, ছন্দ, অন্ত্যমিল, উপমা-উৎপ্রেক্ষা কিংবা অলংকার হচ্ছে কাব্যসাহিত্যের প্রাণ। কবি আলম সিদ্দিকী ইতোমধ্যে এ সব বিষয়ে নিজেকে বেশ দক্ষ করে তুলেছেন এ কথা অতি সহজেই বলা যায়। বিশেষকরে ‘হেসে হেসে সূর্য ওঠে খোঁপায় গোজা ফুলে’ ‘হাওয়া দোলে ছন্দ তোলে রেশমী চুলের উলে’ এমন অসংখ্য পঙক্তি তাকে পরিপক্ক ছড়াকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

গ্রন্থ থেকে নামকাব্য পাঠ করেন- কবি কামরুল আজাদ, কবি এরফান আলী এনাফ, কবি সাবের রাহী, কবি প্রতীক ওমর, কবি ফারহানা শরমিন, কবি আমিন মোহাম্মদ, কবি আমিনা খাতুন লাইলী, কবি সেলিনা পারভীন রুমা, কবি নাবিউল হাসান, কবি হাসান আবাবিল, ফৌজিয়া ইয়াসমিন, কবি ইসলাম তরিক, কবি শাহাদাৎ সরকার, কবি আবদুল কাদের নাহিদ, কবি সৌখিন আজিজ, কবি তামান্না ইয়াসমিন বৃষ্টি প্রমুখ।

উল্লেখ্য, নামকাব্য মূলত নাম বিষয়ক ছড়া-কবিতা। সৃষ্টিজগতের নানা জীববৈচিত্র, নিত্যপ্রয়োজনীয়-অপ্রয়োজনীয় সমস্ত বস্তু কিংবা প্রকৃতির সকল সৃষ্টির নামেও নামকাব্য হতে পারে। তবে এটি ক্লেরিহিউ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। কেননা ক্লেরিহিউ ব্যক্তিনামের উপর ভিত্তি করেই রচিত হয় কিন্তু নামকাব্য ব্যক্তিনামকে এড়িয়ে চলে। ক্লেরিহিউ এর স্তবক একটি এবং গদ্যময়ও হতে পারে কিন্তু অন্ত্যমিলসহ নামকাব্যের স্তবক দুটি এবং দুটি স্তবকে আট লাইন হতে হবে। এমন আরো কতগুলো বৈশিষ্ট্য নিয়েই এ কাব্যধারার সূচনা করার প্রয়াস চালিয়েছেন কবি আলম সিদ্দিকী। নামকাব্য-১ নামে দুশো নামকাব্যের সমন্বয়ে প্রায় সাড়ে সাত ফর্মার একটি গ্রন্থও রচনা করেছেন তিনি। দুই হাজার ষোল সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় বইটি প্রকাশ করেছে অনন্যা।

বাংলার কথা/অক্টোবর ১২, ২০১৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Follow by Email
%d bloggers like this: