ওসি প্রদীপসহ ৯ আসামি কারাগারে

বাংলার কথা ডেস্ক ০
পুলিশের গুলিতে সাবেক সেনা কর্মকর্তা (মেজর) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও টেকনাফের বাহারছড়া শামলাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের প্রত্যাহার হওয়া পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন কক্সবাজারের একটি আদালত।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে এ আদেশ দেন কক্সবাজার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

আদালতে ওসি প্রদীপ কুমার দাশ (লাল বৃত্তে)।

এর আগে এই মামলায় ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে চট্টগ্রাম থেকে পুলিশ হেফাজতে কক্সবাজার আদালতে নেয়া হয়। তারও আগে অপর আট আসামিকেও আদালতে নেয়া হয়।

মামলায় বাদিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী রাখাল চন্দ্র মিত্র। আর আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ জাকারিয়া।

পুলিশের গুলিতে সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা মো. রাশেদ নিহতের ঘটনায় ৯ পুলিশ সদস্যকে আসামি করে গেল ৫ জুলাই মামলা করেন তার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। টেকনাফ উপজেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারহার আদালতে মামলাটি করা হয়। পরে মামলাটি আদালত আমলে নিয়ে টেকনাফ থানার ওসিকে এজাহারের ধারা অনুযায়ী হত্যা মামলা হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি মামলাটি রেকর্ড করে সাত দিনের মধ্যে আদালতকে অবগত করার আদেশও দেন আদালত।


ওসি প্রদীপ ও ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী আনোয়ারুল কবির বাবুল ও মোহাম্মদ মোস্তফা জানান, মামলা রেকর্ডের পর কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ ব্যাটালিয়নের কমান্ডার আজিম আহমেদকে তদন্ত করার নির্দেশও দেন আদালত।

মামলার এজাহারে প্রধান আসামি করা হয়েছে টেকনাফ বাহারছড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলীকে। মামলায় ২নং আসামি করা হয়েছে টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাসকে। এছাড়া অন্য সাত আসামি হলেন- এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কনস্টেবল কামাল হোসেন, কনস্টেবল মো. আবদুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া, এসআই টুটুল ও কনস্টেবল মোহাম্মদ মোস্তফা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাবেক মেজর সিনহা হত্যার ঘটনায় তার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস বাদি হয়ে যে মামলাটি করেছেন ওই মামলায় এসআই টুটুল ও কনস্টেবল মোহাম্মদ মোস্তফার নাম দিলেও সে নামে ওই তদন্ত কেন্দ্রে পুলিশের কোনো সদস্য নেই বলে দাবি করে সূত্রটি।

এদিকে ওসি প্রদীপকে আদালতে হাজির করার সময় উপস্থিত উৎসুক জনতা নানা আপত্তিকর গালিগালাজ করেন। অনেকেই ‘খুনি প্রদীপের ফাঁসি চাই’ বলেও শ্লোগান দেন। পরে পুলিশ উপস্থিত লোকজনদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।

মেজর সিনহা হত্যার আসামিদের আদালতে আনার খবরে অসংখ্য মানুষ ভিড় করেন কক্সবাজার আদালত চত্বরে।

সূত্রমতে, বৃহস্পতিবার দুপুরের পর সিনহা হত্যা মামলার দ্বিতীয় আসামি টেকনাফ থানার প্রত্যাহারকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ হেডকোয়ার্টার হাসপাতালে চিকিৎসার কথা বলে গাড়ি নিয়ে এলে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। সেখান থেকে তাকে নিয়ে দুপুর ২টার দিকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় পুলিশ। বিকাল ৫টার দিকে তাকে তোলা হয় কক্সবাজারের টেকনাফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। পরে দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত আত্মসমর্পণকৃত সব আসামির জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ছবি:ইউএনবি।

অবসরপ্রাপ্ত মেজর রাশেদ খান

প্রসঙ্গত, গত ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান (৩৬)। তার ওপর গুলি চালান বাহারছড়া ফাঁড়ির দায়িত্বরত পুলিশ ইন্সপেক্টর লিয়াকত। নিহত সিনহা রাশেদকে ঢাকায় সামরিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এই ঘটনায় বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলীসহ ২০ জনকে ক্লোজড (প্রত্যাহার) করা হয়েছে। বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে পুরো নতুন টিম দেয়া হয়েছে।

সূত্র: যুগান্তর

বাংলার কথা/আগস্ট ০৬, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Follow by Email
%d bloggers like this: