আজ- রবিবার, ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৬ই রজব, ১৪৪২ হিজরি
বাংলার কথা
Header Banner

ঈশ্বরদীতে মনোরম পরিবেশে চলছে নির্বাচনী প্রচারণা

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp

শেখ মেহেদী হাসান, ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিবেদক o

আগামী ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঈশ্বরদী পৌরসভা নির্বাচন। সরকার দলের প্রার্থীর পাশাপাশি বিরোধী দলীয়  প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচার প্রচারণা চালানোয় রয়েছে মনোরম নির্বাচনী পরিবেশ। ভোট গ্রহনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে প্রার্থীদেরও বাড়ছে ব্যস্ততা। পোস্টারিং, লিফলেট বিতরণ, গণসংযোগের পাশাপাশি কয়েক দফায় দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে বিএনপি প্রার্থী দিয়েছেন মোটর সাইকেল শোভাযাত্রা।

 

 

অন্য দিকে আওয়ামী লীগের  নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ভোটাদের বাড়িতে গিয়ে ভোট প্রার্থনা, গণসংযোগ, মহল্লায় মহল্লায় উঠান বৈঠক, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অংশ গ্রহন করছেন। আর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীও স্বল্প পরিসরে চালিয়ে যাচ্ছেন প্রচার প্রচারণা এবং গণসংযোগ।

 

 

সরকার দলীয় প্রার্থী ও স্থানীয় এমপির কঠোর নির্দেশনায় বিশৃঙ্খলাহীন মনোরম পরিবেশ তৈরী করে বিরোধীদের প্রচার প্রচারণা চালানোর পথ সুগম করা হয়েছে। এই কারণে মোরগ ডাকা ভোর থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত নেতাকর্মীদের নিয়ে চলছে ভোট প্রার্থনা করে গণসংযোগ, ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে নিজের পক্ষে ভোটের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা। দেওয়া হচ্ছে নানা রকম নাগরিক সুযোগ সুবিধা প্রদানের আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি।

 

 

ঈশ্বরদী পৌরসভা নির্বাচনে তিন মেয়র প্রার্থীদের পাশাপাশি ৯টি ওয়ার্ডে ব্যস্ত রয়েছেন পৌরসভার কাউন্সিলর পদে  প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী আরোও ৪৭ জন। তাদের নির্বাচনী পোস্টারে ছেঁড়ে গেছে পুরো শহর । ঈশ্বরদী শহর ঘুরে, নির্বাচন কমিশন, প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

 

 

দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ঈশ্বরদীর প্রথম শ্রেনী পৌরসভা নির্বাচনে পৌরপিতা হতে মেয়র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনজন। এরা হলেন বর্তমান সরকার দলীয় আওয়ামী লীগ মনোনিত নৌকা প্রতীকে ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইছাহক আলী মালিথা, বিএনপি মনোনিত ধানের শীষ প্রতীকে ঈশ্বরদী সরকারী কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম নয়ন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনিত হাত পাখা প্রতীকে মাওলানা মো. মাসুম।

 

 

ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগ সুত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের রাজনীতি একক ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছিল। দলের ত্যাগী, পরীক্ষিত, ক্লিনিং ইমেজের সিংহভাগ নেতা রাজনীতির প্রতি বিমূখ হয়ে পড়েছিলেন। বেড়ে গিয়েছিলো সন্ত্রাসী কার্যকলাপ। এমনকি এসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে দারুণ ভাবে শিকার হয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীসহ আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীরাও। ফলে ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছিলো তীব্র অসন্তোষ ও প্রাণহানীকর গ্রুপিং। কিন্তু; দ্বিতীয়ধাপে অনুষ্টিত হতে যাওয়া পৌরসভা নির্বাচনে ত্যাগী নেতাদের মধ্যে থেকে ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইছাহক আলী মালিথাকে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা নৌকা প্রতীক দিয়ে সেই প্রাণহানী গ্রুপিং রাজনীতির অবসান ঘটিয়েছেন। এখন ঈশ্বরদী আওয়ামী লীগের মধ্যে নেই গ্রুপিং, কোন্দল, হিংসা। মাঠে নেমেছেন দীর্ঘকাল ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে পরিকল্পিতভাবে দূরে সরিয়ে রাখা সকল নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। দলীয় সভানেত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া নৌকা প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধ স্থানীয় এমপি বীর  মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান বিশ্বাস, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা নায়েব আলী বিশ্বাস, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যানগন, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানগনসহ ঈশ্বরদী উপজেলা, পৌর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সহযোগি সংগঠনগুলো। এই কারণে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিজয় দ্বারপ্রান্তে বলে দাবি করেছেন সূত্রটি।

 

 

ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি সুত্র মতে, ঈশ্বরদীসহ পাবনা জেলাতে বিএনপির উপজেলা ও পৌর শাখায় প্রায় তিন বছর যাবৎ কমিটি নেই। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবকে আহবায়ক করে প্রায় দেড় বছর আগে পাবনা জেলায় আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাবনা জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভায় আহবায়ক কমিটি গঠন করা হলেও বিভিন্ন অনিয়ম, দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতিসহ পক্ষপাতমুলক আচরণের কারণে ঈশ্বরদী পৌরসভাতে আহবায়ক কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি।

 

 

সুত্রগুলো আরো জানান, ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটিতে পূর্বে থাকা কোন নেতাকর্মীর সঙ্গে আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের যোগাযোগ নেই। আহবায়ক হাবিব সম্পুর্ন পক্ষপাতমূলক আচরণ করে স্বজনপ্রীতি ও আত্মীয়করণের মাধ্যমে ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠন করেছেন। এই অবস্থায় ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনে হাবিবুর রহমান হাবিব একক সিদ্ধান্তে দলের পক্ষ থেকে প্রার্থী দিয়েছেন। ফলে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের মতো ঈশ্বরদী পৌরসভা নির্বাচনেও দলীয় প্রার্থীর সঙ্গে দলীয় কোন নেতাকর্মী নেই। যার কারণে কমিটিহীন বিএনপি থেকে প্রার্থী হয়ে দলীয় সিংহভাগ নেতাদের অসহযোগিতায় পড়ে বিপাকে রয়েছেন রফিকুল ইসলাম নয়ন।

 

 

এদিকে স্বল্প পরিসরে ঝামেলা মুক্ত প্রচারণার ব্যস্ত রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (ইআবা) প্রার্থী মাওলানা মো.মাসুম।

 

 

নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা ও পরিবেশ নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা মার্কা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা মো. মাসুম  জানান, আমার দল প্রথমবারের মতো পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী দিয়েছে। স্বল্প পরিসরে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে প্রচার প্রচারণা চালানো হচ্ছে। প্রচার প্রচারণায় সরকারি দলীয় প্রার্থীর পক্ষ থেকে কোন বাধা দেওয়া কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের কোনরূপ ঘটনা ঘটেনি। তবে ইতোপূর্বে কয়েক জায়গায় কে বা কারা যেনো তার হাতপাখা মার্কা প্রতীকের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছিল।

 

 

বিএনপির থেকে মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম নয়ন অভিযোগ করে জানান, প্রচারণার শুরুর দিকে সরকার দলীয় প্রার্থীদের পক্ষ থেকে তার প্রচার মাইকে ভাঙচুর, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা, প্রচারকারীকে মারপিটসহ নিজবাড়িতে হামলা করা হয়েছে। এইসব বিষয়ে থানায় ও নির্বাচন কমিশনের অভিযোগ করা হয়েছে।

 

 

বিএনপির থেকে মেয়র প্রার্থী নয়ন আরো জানান, এইসব পরিবেশের মধ্য দিয়েই নেতাকর্মীদের নিয়ে কয়েক দফা মোটর সাইকেল শোভাযাত্রা, পথসভা করা হয়েছে। ভোট প্রার্থনা করে লিফলেট বিতরণসহ প্রচারণা চালানো হচ্ছে। নয়নের দাবি ভোট প্রদানের সুষ্ঠু পরিবেশ থাকলে এবং জনগণ ভোট দিতে পারলে অবশ্যই তিনি বিজয়ী হবেন।

 

 

আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ইছাহক হক আলী মালিথা জানান, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিএনপি প্রার্থীর উপর বাড়িতে হামলা, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা, প্রচারণায় বাধা এবং বাড়িতে হামলা করার যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পুর্নরূপে মিথ্যা। ঈশ্বরদীতে বিএনপির কোন কমিটি নেই। বিএনপির পূর্বের কোন নেতাকর্মীরা বিএনপির মেয়র প্রার্থীর সঙ্গে নেই। বিএনপির অন্ত:দ্বন্দ্বের কারণেই প্রতিপক্ষ গ্রুপের মধ্যে থেকেই হয়তো এসব কর্মকান্ড করা হয়ে থাকতে পারে। আওয়ামী লীগ বাঁধা দিলে বা সৃষ্টি করলে বিএনপি প্রার্থী কয়েক দফা মোটর সাইকেল শোভাযাত্রা, পথ সভা ও প্রচার প্রচারণা চালাতে পারতো না।

 

 

ইছাহক আলী মালিথা আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এবং স্থানীয় এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বিশ্বাসের নেতৃত্বে ঈশ্বরদী আওয়ামী লীগ আজ ঐক্যবদ্ধ। দলের মধ্যে নেই কোন গ্রুপিং। সকল নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ হয়ে সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত মাঠে কাজ করছেন। জনগণের দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন।

 

 

ইছাহক মালিথা জানান, জনগণ এখন অনেক সচেতন। দেশে আওয়ামী লীগের  অভূতপূর্ব  উন্নয়নের শরিক জনগন। দেশের উন্নয়নের ধারবাহিকতা বজায় রাখতে এবং উন্নয়নে শরিক হতে আগামী ১৬ জানুয়ারি ঈশ্বরদী পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নৌকাকে বিজয় করবেন বলেও আশাবাদী এই নেতা।

 

 

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পৌরসভা নির্বাচনের রির্টানিং কর্মকর্তা পিএম এমরুল কায়েস জানান, আগামী ১৬ জানুয়ারি পৌরসভা নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে ব্যাপক প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। মনোরম পরিবেশে স্ব-স্ব প্রার্থীরা প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সকল প্রার্থীর পোস্টার শহরে শোভা পাচ্ছে।

 

 

তিনি আরো জানান, বিএনপি মেয়র প্রার্থীর করা অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রমাণ পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

 

 

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র মতে, ঈশ্বরদী পৌরসভার মোট ভোটার সংখ্যা ৫৫ হাজার ৫৬৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২৭ হাজার ২৪১ জন এবং নারী ভোটার রয়েছেন ২৮ হাজার ৩২৭ জন। আর মোট ভোট কেন্দ্র ১৯টি এবং বুথ রয়েছে ১৫২টি। মেয়র পদে তিনজনসহ কাউন্সিলর পদে মোট ৪৭ জন পুরুষ ও মহিলা প্রার্থী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

 

 

বাংলার কথা/জানুয়ারি ১২, ২০২১

 

 

এই রকম আরও খবর

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn