শনিবার , ১৪ জানুয়ারি ২০২৩ | ২৫শে মাঘ, ১৪২৯
  1. অর্থনীতি
  2. আন্তর্জাতিক
  3. খুলনা বিভাগ
  4. খেলাধুলা
  5. চট্টগ্রাম বিভাগ
  6. জাতীয়
  7. ঢাকা বিভাগ
  8. প্রচ্ছদ
  9. ফিচার
  10. বরিশাল বিভাগ
  11. বিনোদন
  12. মতামত
  13. ময়মনসিংহ বিভাগ
  14. রংপুর বিভাগ
  15. রাজনীতি

ঈশ্বরদীতে রিক্সাচালক মামুন হত্যা মামলার প্রধান আসামীসহ গ্রেফতার ৫, অস্ত্র উদ্ধার

প্রতিবেদক
BanglarKotha-বাংলারকথা
জানুয়ারি ১৪, ২০২৩ ২:৩২ অপরাহ্ণ

শেখ মেহেদী হাসান, ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি :

ঈশ্বরদীতে তুচ্ছ ঘটনায় কথা কাটাকাটির জেরে গুলি করে ও ছুরিকাঘাতে রিক্সা চালক মামুন হোসেন (৩২) হত্যা মামলার প্রধান আসামী কাউন্সিলর কামাল উদ্দিনসহ (৪৮) এজাহারভুক্ত ৫ আসামীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব ও পুলিশ। কাউন্সিলর কামালের ছোট ভাই গুলি করে হত্যাকারী ২ নং আসামী গ্রেফতার আনোয়ার হোসেনের (৩৫) দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে হত্যায় ব্যবহৃত বিদেশী পিস্তলসহ ৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ (শনিবার) দুপুরে পাবনা পুলিশ সুপার আকবর আলী মুনসি প্রেস রিলিজের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অরবিন্দ সরকার জানান, রিক্সা চালক মামুন হোসেন হত্যা মামলার নামীয় ২ নং আনোয়ার হোসেনকে তিন দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া হয়। তার দেওয়া তথ্য মতে গত শুক্রবার তার নিজ বাড়ি শহরের শৈলপাড়া (বার কোয়ার্টাস) এলাকায় অভিযান চালানো হয়। আনোয়ারের দেখানো স্থানে মাটি খুড়ে হত্যায় ব্যবহৃত একটি বিদেশী পিস্তল ও ৩ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। শনিবার পুলিশ রিমান্ড শেষে আনোয়ারকে পাবনা আদালতে প্রেরণ করা হয়। এজাহার ভুক্ত ৪ নং আসামী ইব্রাহিম হোসেন (২৬) বিজ্ঞ আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমুলক জবান বন্দি দিয়েছেন বলেও জানান ওসি।

র‌্যাব-১২, সিপিসি-২ পাবনা ক্যাম্প ও পুলিশ সুপারের দেওয়া প্রেস রিলিজ সুত্রে জানা যায়, রিক্সা চালক মামুন হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামী কাউন্সিলর কামাল উদ্দিন (৪৮), ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন (৩৫), ভাতিজা মোঃ হৃদয় হোসেন (২৪) বিরুদ্ধে ঈশ্বরদী থানায় হত্যা, মাদক, মারামারি, চুরিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়াও রেলওয়ের তেল চুরির একাধিক মামলার আসামী। আসামীরা কয়েক বার রেলওয়ের চুরিকৃত তেলসহ র‌্যাবের হাতে আটক হয়েছে। কাউন্সিলর কামাল উদ্দিন ও আনোয়ার হোসেন শহরের শৈলপাড়া (বার কোয়ার্টাস) এলাকার মৃত নুর উদ্দিন নুরুর ছেলে।

মামুন হত্যা মামলার অপর আসামীরা হলেন, শহরের শৈলপাড়া (বার কোয়ার্টাস) এলাকার কাঠমিস্ত্রি আকরাম হোসেনের ছেলে ইব্রাহিম হোসেন (২৬) ও একই এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে সাকিবুর ইসলাম সাকিব (১৭)।

ওসি আরও জানান, নিহত রিক্সাচালক মামুন হোসেনের মা লিপী বেগম বাদী হয়ে ৬ জানুয়ারি/২৩ ঈশ্বরদী পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কামাল উদ্দিনকে প্রধান করে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫জন আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে সাকিবুর ইসলাম সাকিব জড়িত থাকায় প্রমান পাওয়ায় তাকে গ্রেফতার করে আসামী করা হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঈশ্বরদী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুব্রত কুমার ঘোষ জানান, পাবনা পুলিশ সুপার আকবর আলী মুনসি মহোদয়ের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মাসুদ আলম, ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী, ওসি অরবিন্দ সরকার, ওসি (তদন্ত) হাদিউল ইসলামসহ পুলিশের একটি চৌকস দল বিগত ১০ দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে ও আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সহযোগিতায় আসামীদের গ্রেফতারসহ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

মামলা, র‌্যাব ও পুলিশ সুপারের প্রেস রিলিজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সুত্রে জানা যায়, গত ৪ জানুয়ারি/২৩ রাত সোয়া ৮টার দিকে ঈশ্বরদী বিমানবন্দর সড়কের কাচারিপাড়াস্থ আলীর মোটর সাইকলে গ্যারেজের সামনে ইপিজেডের শ্রমিকবাহী ভুটভুটি ও পিকআপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে পিকআপের গ্লাস ভেঙ্গে যায়। এই গ্লাসের ক্ষতিপূরণ আদায়কে কেন্দ্র করে আলীর গ্যারেজের কর্মচারী পারভেজ ও স্থানীয় রিক্সাচালক মামুন, রকি ও সুমনসহ আরো কয়েকজনের সঙ্গে গুলি করে হত্যাকারী আনোয়ার হোসেনের শ্যালক পিকআপ চালক সুজনের তর্কাতর্কির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি পিকআপ চালক সুজন ফোনে তার দুলাভাই আনোয়ারকে জানান। তখন কাউন্সিলর কামাল উদ্দিন, আনোয়ার হোসেন, ইব্রাহিম,হৃদয়, সাকিবসহ আরো ৪/৫জন আলীর গ্যারেজে আসেন। দুর্ঘটনার ক্ষতি পূরন আদায়কে কেন্দ্র করে উভয় গ্রুপের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও মারামারি শুরু হয়। এক পর্যায় কাউন্সিলর কামাল উদ্দিনের নির্দেশে ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন পিস্তল বের করে গুলি করে। এতে রিক্সাচালক মামুন হোসেন মারা যান। আর গুলিবিদ্ধ ও ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়ে সুমন ও রকি এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহত রিক্সাচালক মামুন হোসেনের মা লিপী বেগম ও স্ত্রী সুমাইয়া খাতুন জানান, হত্যাকারীরা সবাই গ্রেফতার হয়েছে শুনেছি। এখন তাদের সকলের ফাঁসি হলেই আমার শান্তি পাবো।

সর্বশেষ - প্রচ্ছদ