মঙ্গলবার , ২৯ নভেম্বর ২০২২ | ২০শে মাঘ, ১৪২৯
  1. অর্থনীতি
  2. আন্তর্জাতিক
  3. খুলনা বিভাগ
  4. খেলাধুলা
  5. চট্টগ্রাম বিভাগ
  6. জাতীয়
  7. ঢাকা বিভাগ
  8. প্রচ্ছদ
  9. ফিচার
  10. বরিশাল বিভাগ
  11. বিনোদন
  12. মতামত
  13. ময়মনসিংহ বিভাগ
  14. রংপুর বিভাগ
  15. রাজনীতি

ঈশ্বরদীতে অধ্যক্ষ পেটালেন সহকারী অধ্যাপককে, শিক্ষক কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ

প্রতিবেদক
BanglarKotha-বাংলারকথা
নভেম্বর ২৯, ২০২২ ৫:২৮ অপরাহ্ণ

শেখ মেহেদী হাসান,পাবনা প্রতিনিধি :
ঈশ্বরদীতে দেরিতে আসার অভিযোগে নিজ কলেজের জ্যেষ্ট শিক্ষককে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছেন অধ্যক্ষ রবিউল আলম। এই ঘটনার কলেজের সকল শিক্ষক কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। সমাধানের কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন অধ্যক্ষের স্ত্রীর ভাই কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ঈশ^রদী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ মিন্টু।

আজ (মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঈশ^রদীর সলিমপুর ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষে বাংলা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক রহমতুল্লাহকে পিটিয়ে রক্তাত্ব করাসহ এসব ঘটনা ঘটে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলেজের শিক্ষকরা জানান, নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি শিক্ষককে সকাল ১০টার মধ্যে কলেজে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে হয়। সহকারি অধ্যাপক রহমতুল্লাহ ঘটনার দিন সকাল সোয়া ১০টা দিকে অধ্যক্ষের কক্ষে উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে যান। এই সময় অধ্যক্ষ ওই সহকারী অধ্যাপককে দেরীতে আসার জন্য খাতায় অনুপস্থিত করেন। তখন বাড়িতে সমস্যা ও সড়কে যানজটে পড়ে কিছুটা দেরি হয়েছে বলে অধ্যক্ষকে জানান সহকারী অধ্যাপক রহমত উল্লাহ। কিন্তু অধ্যক্ষ কোন কথা না শোনায় সহকারী অধ্যাপক তাঁর পাওনা নৈমত্তিক ছুটি থেকে একদিনের ছুটি দেওয়া জন্য দরখাস্ত দিতে চান। আর ছুটি না দিলে উপস্থিতির খাতায় স্বাক্ষর করার করার সুযোগ দিতে হবে বলে দাবী করেন। একথা শোনার পর অধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে সহকারী অধ্যাপক রহমতুল্লাহকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। সহকারী অধ্যাপক রহমতুল্লাহ একপর্যায়ে অধ্যক্ষকে গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে অধ্যক্ষ আরও উত্তেজিত হয়ে পড়েন সহকারী অধ্যাপক রহমতুল্লাহকে চড়-কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। এতে রহমতুল্লাহ মাটিতে পড়ে গেলে অধ্যক্ষ তাঁকে লাথিও মারেন। একপর্যায়ে পাশের কক্ষ হতে তিনজন শিক্ষক ছুটে এসে রহমতুল্লাহকে উদ্ধার করেন।

কলেজের একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, সলিমপুর ডিগ্রি কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ঈশ^রদী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ মিন্টু অধ্যক্ষ রবিউল ইসলামের স্ত্রীর ভাই। এই প্রভাবে অধ্যক্ষ কলেজে এককভাবে আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছেন। প্রায়ই কলেজের সঙ্গে অশালিন আচরণ করেন। এর আগেও সহকারী অধ্যাপক রহমতুল্লাহ সঙ্গে অধ্যক্ষ রবিউল ইসলামের কয়েক দফা হাতাহাতি, ধাক্কাধাক্কিসহ উচ্চবাচ্চ্য হয়েছে। পুরো কলেজে বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য বিরাজ করছে। কলেজে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশে নষ্ট হয়েছে। শিক্ষক কর্মচারীদের মধ্যে অস্থিরতা ও অসন্তোষ্ট বিরাজ করছে।

ঘটনার পর দুপুরে কলেজের সকল শিক্ষক কর্মচারী জরুরীভাবে সভা করে অধ্যক্ষের আচরণের বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়েছেন। এই সময় পাবনা জেলা পরিষদের সদস্য তফিকুজ্জামান রতন মহলদার উপস্থিত ছিলেন। তবে সভায় শিক্ষক কর্মচারীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আওয়ামীলীগ নেতা আবুল কালাম আজাদ মিন্টু কলেজে আসেন। অধ্যক্ষ কর্র্তৃক সহকারী অধ্যাপক রহমতুল্লাহকে রক্তাক্ত করার ঘটনাটি দূঃখজনক দাবী করে বিষয়টি সময় নিয়ে তিনি দেখবেন বলে প্রতিশ্রæতি দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে চলে যান।

সহকারি অধ্যাপক রহমত উল্লাহ বলেন, ‘অধ্যক্ষ মাঝেমাঝেই শিক্ষকদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। এরআগে গত ১২ জুন এবং ২০১৭ সালেও আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। দেরীতে আসার জন্য অনুপস্থিত না করে ছুটির দরখাস্ত দিতে চেয়েছিলাম। এটাই আমার অপরাধ। অশালীন ভাষাই শুধু নয়, উনি আমাকে মারধর করে রক্তাক্ত করেছেন। অধ্যক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় আমিসহ অন্যান্য শিক্ষকরা তার অন্যায় আচরণের বিচার পান না।
এঘটনায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সেলিম আক্তার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষক অনিয়ম করলে চাকুরি বিধি অনুযায়ী অধ্যক্ষ ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। কিন্তু শিক্ষককে মারধর করা ভীষণ অন্যায়। এই অন্যায়ের জন্য অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার পি এম ইমরুল কায়েস বলেন, ঘটনা সম্পর্কে আমি এখনও অবগত নই। খোঁজখবর নিয়ে দেখবো।
সলিমপুর ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে করা সকল অভিযোগসহ মারপিটের ঘটনা অস্বীকার করে মুঠোফোনে বলেন, কলেজে সহকারী অধ্যাপক রহমতুল্লাহকে মারপিটের কোন ঘটনা ঘটেনি। কলেজে দেরিতে আসাকে কেন্দ্র করে তাঁর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছে মাত্র। কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতিসহ সদস্যরা কলেজে এসে সব শুনে গেছেন। আগামী এক সপ্তাহপর বিষয়টি নিয়ে কমিটির বসার কথা রয়েছে।

সর্বশেষ - প্রচ্ছদ