মঙ্গলবার , ১০ জানুয়ারি ২০২৩ | ২০শে মাঘ, ১৪২৯
  1. অর্থনীতি
  2. আন্তর্জাতিক
  3. খুলনা বিভাগ
  4. খেলাধুলা
  5. চট্টগ্রাম বিভাগ
  6. জাতীয়
  7. ঢাকা বিভাগ
  8. প্রচ্ছদ
  9. ফিচার
  10. বরিশাল বিভাগ
  11. বিনোদন
  12. মতামত
  13. ময়মনসিংহ বিভাগ
  14. রংপুর বিভাগ
  15. রাজনীতি

ঈগল পাখি ও কিছু কথা

প্রতিবেদক
BanglarKotha-বাংলারকথা
জানুয়ারি ১০, ২০২৩ ১২:৪৪ অপরাহ্ণ

লেখকঃ মোঃ হায়দার আলী:

ঈগল এক প্রকার বৃহৎ আকার, শক্তিধর, দক্ষ শিকারি পাখি। ঈগল সাধারণত বনে বা ঘন জঙ্গলে বসবাস করে থাকে। বানর, ছোট জাতের পাখি, টিকটিকি, হাস-মুরগী খেয়ে জীবনধারণ করে থাকে। একটি পূর্ণবয়স্ক ঈগলের ওজন প্রায় ৩০ কেজি এবং লম্বায় প্রায় ৩০-৩৫ ইঞ্চি হয়ে থাকে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো একটি পূর্ণবয়স্ক সুস্থ ঈগল ১১ হাজার  ফুট উপরে উঠতে পারে। শীতকালে এরা তুলনামুলক কম শীত এলাকা বা দেশে চলে যায়। এরা জনমানব এলাকার বাইরে এবং কমপক্ষে ১০০ ফুট উপরে বাসা তৈরি করে স্বামী-স্ত্রী উভয়ে একত্রে বসবাস করে প্রজনন ঘটায়।

তাদের জীবন রক্ষার জন্য বড় হাতিয়ার তাদের পায়ের নখ। নখগুলো এতই তীক্ষ্ণ যে নিমিষের মধ্যে শিকারকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়। তবে এরা এখন বিলুপ্তির পথে। বাংলাদেশে এদের দেখা পাওয়া যায়না বললেই চলে। তামাটে ঈগল (বৈজ্ঞানিক নাম: Aquila rapax) বা খয়েরি ঈগল Accipitridae (অ্যাক্সিপিট্রিডি) গোত্র বা পরিবারের অন্তর্গত Aquila (অ্যাকিলা) গণের অন্তর্গত এক প্রজাতির বৃহদাকৃতির শিকারী পাখি। যদিও বাংলাদেশে একসময় সাদা বুকের সমুদ্র ঈগল (Haliacetus Leucogaster), কুড়া বা পলাশ মেছো ঈগল (Haliacetus leucoryphus), কুল্লে বা সাপখেকো ঝুঁটি ঈগল (Spilornis cheela) ছোটনখের ঈগল দেখা যেত কিন্তু অধুনা তারা বিলুপ্তির পথে।

এখনও পর্যন্ত জানতে পারা সবচেয়ে বড় জাতের ঈগল হল হাস্ট ঈগল।  ১৮৭৪ সালে জুলিয়াস ফন হাস্ট নিউজিল্যান্ডে এই জাতের ঈগলের প্রথম দেখা পান বলে তার নামানুসারে এই জাতের ঈগলের এই নামকরণ করা হয়। অবশ্য স্থানীয় মাওরি জতের মানুষের কাছে এরা আগে থেকেই সুপরিচিত ছিল। এদের ডানামেলা অবস্থায় প্রস্থ তিন মিটার পর্যন্ত হত, ওজন হত আঠারো থেকে কুড়ি কিলোগ্রাম। বর্তমানে এরা বিলুপ্ত।

পাখিদের ভিতর ঈগল পাখির জীবন যাত্রাটা একটু ভিন্ন অন্য পাখিদের তুলোনায়। প্রতিটা ঈগল পাখি গড়ে প্রায় ৭০ বছর করে বাঁচে। কিন্তু ঈগল পাখির বয়স যখন ৪০ এ আসে তখন জিবনটা একটু কষ্টের হয়ে দাঁড়ায়। ৪০ বছরে এসে অনেক ঈগল পাখি মারা যায় জীবন সগ্রামে হেরে। কিছু ঈগল থাকে খারাপ ঐ সময়টাকে কাটীয়ে উঠতে পারে।

৪০ বছরে যখন একটা ঈগল পাখি পোঁছাই তখন ঈগল পাখি ঠিক মত শিকার করতে পারে না। কারণঃ ঐ সময়টাতে ঈগলের ঠোঁটটা অনেক ভারি, মোটা আর ভোঁতা হয়ে যায়। পাখা গুলো ভারি ও পালক পুরোতন হয়ে যায়। পায়ের নখ গুলো অনেক বড় হয়ে বাঁকিয়ে যায়। কিছুটা গোল আকৃতি ধারণ করে।

যার যন্য ঠোঁট দিয়ে ঠীক মত শিকারকে আক্রমন করতে পারে না। নখ দিয়ে শিকারকে ধরতে পারে না। আর পাখা ভারির জন্য উড়তেও পারে না। যে কারণে ঐ অবস্থাই বেঁচে থাকাটা অনেক কষ্টের হয়ে যায়। এই অবস্থাতে কিছু ঈগল মারা যায়।

কিছু ঈগল উচু পাহাড়ের চুঁড়াতে অবস্থান করে। নিজের ঠোঁটকে শক্ত পাথরে সাথে বাড়ি মেরে মেরে ঠোঁটটাকে ভেঙে ফেলে। অপেক্ষা করে নতুন ঠোঁট কবে আবার গজাবে। একটা নতুন ঠোঁট আবার নতুন করে গজাতে ৩ মাস সময় নেয় প্রায়। এর ভিতরে ঈগল পাখিটি কনো খাবার গ্রহন করে না। ইভেন পানি র্পযন্ত খায় না।

অপেক্ষার পর যখন নতুন ঠোঁটের র্পুনাবৃত্তি হয়, নতুন ধারালো ঠোঁট দিয়ে পায়ের নখ গুলো কেটে ফেলে। পাখার পালক গুলো ছিড়ে ফেলে। অপেক্ষা করে আরো ১ মাস নতুন পাখা আর নখের জন্য। আবার যখন নতুন পাখা , নখ ফিরে পায় তখন আবার ঈগল শিকারে বের হয়। এই প্রক্রিয়াটা প্রায় ৪ মাস ধরে চলতে থাকে। যে ঈগলটী র্পুণ চক্র ধরে রাখতে পারে সেটা ৭০ বছর র্পযন্ত বাঁচে। প্রায় সব ঈগল কে এই পরির্বতন বা লাইফ প্লাটর্ফমটা মেনে নিতে হয়।

 লেখক: মো. হায়দার আলী
  সিনিয়র সাংবাদিক,  কলামিষ্ট,
প্রধান শিক্ষক, মহিশালবাড়ী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়
                                          সভাপতি
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা, গোদাগাড়ী উপজেলা শাখা, রাজশাহী।

সর্বশেষ - প্রচ্ছদ