আজ- রবিবার, ৭ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৩শে রজব, ১৪৪২ হিজরি
বাংলার কথা
Header Banner

আড়ানীতে আ’লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঘা (রাজশাহী) ০
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বুধবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে আওয়ামী লীগের দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দফায়-দফায় সংঘর্ষ এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পৌর এলাকার তালতলায় দলীয় প্রার্থীর পক্ষে জনসংযোগে অংশ নিয়ে কাটাখালি পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র আব্বাস আলী দলের বিদ্রোহী প্রার্থী মুক্তার আলীল বিপক্ষে উস্কানীমূলক বক্তব্য দেওয়ায় এই সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

 

সংঘর্ষকালে ৬ রাউন্ড পিস্তলের ফাঁকা গুলি এবং ৮ থকে ১০টি ককটেল বিস্ফোরণ হয় বলে দাবি করেছে প্রত্যক্ষদর্শীরা। এতে আহত হন বিদ্রোহী প্রার্থী মুক্তার আলীসহ উভয়পক্ষের প্রায় ১৩ জন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা ও চারঘাট সার্কেলের সিনিয়র (এএসপি) নুরে আলম ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন। এসময় বাঘা ছাড়াও চারঘাট ও পুঠিয়া থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এবং রাজশাহী থেকে র‌্যাব এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী শহীদুজ্জামান শাহীদ জানান, তাঁর আহত কর্মীদের মধ্যে আহত তুষার আলী ও লাল্টুকে পার্শ্ববর্তী পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এছাড়া তাঁর কর্মীদের তিনটি মোটর সাইকেল ভাঙচুর এবং নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে। অপরদিকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মুক্তার আলীর দাবি, তিনি নিজেসহ তার কর্মী নাজমুল হক, রানা, বকুল, মজনু, খোকন, ফারুক, জিসান, হৃদয়, জাহিদ, রাজু ও আরিফুল আহত হয়েছে। এদের মধ্যে নাজমুলের অবস্থা গুরুতর।

 

 

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পাঁচ শতাধিক দলীয় নেতা-কর্মী নিয়ে আড়ানী বাজারের তালতলায় আড়ানী পৌরসভার আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শহীদুজ্জামান শাহীদের নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য রাখেন কাটাখালি পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র আব্বাস আলী। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশে একটিমাত্র রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। এই দলের বাইরে কোনো ভোট হবে না। বিদ্রোহী প্রার্থীকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। সুতরাং আপনরা তাকে ভোট দিয়ে ভোট নষ্ট করবেন না।

 

এ সময় রাস্তার উত্তর দিক থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী মুক্তার আলীর ৮-১০টি মোটরসাইকেল গণসংযোগ করে নিজেদের নির্বাচনী কার্যালয়ে ফিরছিল। তাদের দাবি, তাদের দেখে পেছন থেকে ধর ধর করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ সহ ধাওয়া করে শাহীদের লোকজন। এতে শাহীদ ও মুক্তারের লোকজনদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় দুই গ্রুপের ফের ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এসময় রাস্তার ধারে বসা সবজি ব্যবসায়ীদের দোকান ভাঙচুর করা হলে অনেক ক্ষতি হয়। ভাঙচুর করা হয় দুই মেয়র প্রার্থীর নির্বাচনী অফিস। ঘটনার এক পর্যায় হাজার হাজার লোকবল লাঠি-সোটা নিয়ে পৌরভবনের সামনে বিদ্রোহী প্রার্থী মুক্তার আলীর পক্ষে অবস্থান নেয়।

 

অন্যদিকে, উত্তরপাশে খ্যাপা বাবার আশ্রম এলাকায় অবস্থান নেয় দলীয় প্রার্থী শহীদুজ্জামান শাহীদের কর্মী-সমর্থকরা। তবে মুক্তার আলীর পক্ষে লোকজনের উপস্থিতি ছিলো অনেক বেশি। সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশসহ প্রশাসনের লোকজন অবস্থান নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তা না হলে বড় ধরণের রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটতে পারতো।

বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, উপজেলা প্রশাসনসহ পুলিশ এবং র‌্যাব এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। রাতে মুক্তার আলীর কর্মী মিলনকে কর্মীকে আটক করা হয়েছে।

 

বাংলার কথা/নুরুজ্জামান/জানুয়ারি ১৪, ২০২১

এই রকম আরও খবর

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn