অভ্যন্তরীন দলীয় কোন্দণে বেতাগীতে যুবলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp

নিউজ ডেস্ক :
দলের অভ্যন্তরিন কোন্দলে বেতাগী উপজেলার সরিষামুড়ি ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ারুল ইসলাম টিটু হাওলাদারকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

 

বরগুনার বেতাগী উপজেলার সরিষামুড়ি ইউনিয়নের যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও একই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মো. আনোয়ার ইসলাম টিটু হাওলাদারকে (৩৮) নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রাজনৈতিক সহিংসতার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানা যায়। গতকাল সোমবার (১৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।

 

নিহত সরিষামুড়ি ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ারুল ইসলাম টিটু জোমাদ্দার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ভোড়া গ্রামের মৃত আব্দুল কাদের হাওলাদারের ছেলে।

 

নিহত যুবলীগ নেতা টিটুর মেয়ে ডলি আক্তার জানান, গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে তার বাবা টিটুকে বর্তমান চেয়ারম্যান মো. ইমাম হাসান শিপন জোমাদ্দারের লোকজন ধরে নিয়ে যায়। এলাকার লোকজনের কাছে জানতে পেরে তিনি বেতাগী থানা পুলিশকে জানান এবং থানা পুলিশ অনেক খোঁজাখুঁজি করে রাস্তার পাশ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে।

 

নিহতের স্ত্রী শিল্পী বেগম জানান, তার স্বামী টিটু ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইউসুফ শরীফের সমর্থক হওয়ায় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বর্তমান চেয়ারম্যান ইমাম হাসান শিপন জোমাদ্দারের দায়ের করা একাধিক মিথ্যা মামলায়ও তাকে আসামি করা হয়েছে। একাধিকবার হুমকি ধমকি ও হামলা করা হয়েছে।

বেতাগী থানা সূত্রে জানা যায়, দুপুরে আনোয়ারুল ইসলাম টিটু হাওলাদারের স্ত্রীর ফোন আসে তার স্বামীকে বর্তমান চেয়ারম্যানের লোকজন ধরে নিয়ে গেছে। পরে পুলিশ একাধিক স্থানে সন্ধান চালিয়ে ছোট গৌরিচন্না নামক স্থান থেকে তার রক্তাক্ত জখম হওয়া লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়।

 

তবে ঘটনায় জড়িত থাকার ব্যাপারে বর্তমান চেয়ারম্যান মো. ইমাম হাসান শিপন জোমাদ্দারকে একাধিকবার ফোন করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বেতাগী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম লিটন জানান, টিটুর বিরুদ্ধে এর আগে কখনও সরকারদলীয় ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রভাব বিস্তারের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

 

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ থানায় কোনো মামলা হয়নি বা পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এ বিষয়ে বেতাগী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে জন্য বরগুনায় প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনার কারণ এবং খুনের সাথে সম্পৃক্তদের খুঁজে বের করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সরিষামুড়ি ইউনিয়নের বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ইমাম হাসান শিপন জোমাদ্দার ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইউসুফ শরীফ উভয়ই সরকারদলীয় লোক। গত ২০১৬ সালের স্থানীয় সরকারের ইউপি নির্বাচনে ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় জেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান শিপন জোমাদ্দারকে। দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নৌকা প্রতীকে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন শিপন এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ইউসুফ শরীফ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিলেও পরাজিত হন। এরপর থেকে শিপন জোমাদ্দার ও ইউসুফ শরীফের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আভ্যন্তরিন দলীয় কোন্দল তীব্র হতে থাকে।

শিপন জোমাদ্দার গত বছরের ২০ নভেম্বর এক বিয়ের অনুষ্ঠানে দাওয়াত খেয়ে বাড়ি ফেরার পথে ইউসুফ শরীফের সর্মথিতরা তাকে কুপিয়ে জখম করে। বেতাগী থানায় মামলা হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন শিপন। এরপর ইউনিয়নের সরকার দলীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা শিপন ও ইউসুফ গ্রুপে বিভক্ত পড়ে।

 

সদ্য সম্পন্ন গত ২১ জুনের ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় আবারো শিপন জোমাদ্দারকে। ইউসুফ শরীফ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও নির্বাচনের পূর্বে তাকে অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। নির্বাচনে শিপন জোমাদ্দার ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

বাংলার কথা/কালের কন্ঠ/২০জুলাই/২০২১

এই রকম আরও খবর

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn