অবশেষে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা খুলে দিলেন পানি চলাচলের ব্রীজের মুখ


বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিনিধি o 
রাজশাহীর বাগমারার মাড়িয়া ইউনিয়নে কৃষি জমি রক্ষার্থে অবৈধ দীঘি অপসারণ ও সরকারি ব্রীজের মুখে ইট ও লৌহার প্রাচীর ভেঙ্গে দিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল থেকে এলাকার শত শত কৃষক মানববন্ধনে অংশগ্রহন করে। মানববন্ধন শেষে  ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী ব্রীজগুলোর মুখ খুলে দিয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার মাড়িয়া ইউনিয়নের সরকারি খালের উপরে অবৈধভাবে দীঘি খনন করে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করেছে দীঘির মালিকরা। এতে করে মাড়িয়া ইউনিয়নের প্রায় ১৫/২০টি গ্রামের কৃষকদের হাজার হাজার হেক্টর জমিতে জলাবদ্ধতা হওয়ায়গত ৫ বছর ধরে জমিতে আবাদ করতে পারছেন না এলাকার কৃষকরা। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য বার বার প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।

ক্ষতিগ্রস্ত গোয়ালপাড়া কৃষক আলতাফ হোসেন, লুৎফর রহমান, মোয়াজ্জেম হোসেন, আব্দুস সাত্তার, গোলাম হোসেন ও আমিনুল হক জানান, গত ৫ বছর আগে এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সরকারি খাস খাল দখল করে অবৈধভাবে ৩০-৩৫টি দীঘি খনন করে মাছ চাষ করায় হাজার হাজার হেক্টর জমিতে জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে। ফলে শত শত কৃষক ফসল ফলাতে না পেরে অসহায় হয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসনে বহুবার আবেদন-নিবেদন করেও সমাধান না হওয়ায় কৃষকরা অবশেষে বাধ্য হয়ে এক জোট হয়ে মানববন্ধন করে পানি চলাচলের বাঁধ সৃষ্টিকারী ব্রীজগুলোর মুখ খুলে দিয়ে স্বাভাবিক পানি চলাচলের ব্যবস্থা করে দিয়েছে।

এদিকে, প্রতিবারই ব্রীজের মুখ খুলে দেয়া হলেও তা পরে প্রভাবশালী দীঘির মালিকরা পুনরায় মুখ বন্ধ করে পানি চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। যার কারণে এ এলাকার শত শত কৃষক আলু, পিঁয়াজ, ধানসহ বিভিন্ন প্রকার শস্য উদপাদন করতে পারছে না। এতে করে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এলাকার কৃষক, তেমনিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশ। কয়েকজন প্রভাবশালী অবৈধ প্রভাবশালী দীঘির মালিকদের কারণে শস্যভান্ডার নামে খ্যাত বাগমারা আজ শস্যহীন বাগমারায় পরিণত হয়েছে।

এরকম অবৈধ দীঘি খনন করে কৃষকদের ক্ষতি করা কোনভাবে সচেতন বাগমারাবাসী মেনে নিতে পারে না। তাই জরুরি ভিত্তিতে সকল অবৈধ দীঘি অপসারণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগি কৃষকরা। প্রভাবশালীদের হাত হতে রক্ষা পেতে কৃষকরা জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমস্যা সমাধানের প্রশাসনের হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন।

বাংলার কথা/শামীম রেজা/অক্টোবর ১৫, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Follow by Email
%d bloggers like this: