বুধবার , ১২ অক্টোবর ২০২২ | ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯
  1. অর্থনীতি
  2. আন্তর্জাতিক
  3. খুলনা বিভাগ
  4. খেলাধুলা
  5. চট্টগ্রাম বিভাগ
  6. জাতীয়
  7. ঢাকা বিভাগ
  8. প্রচ্ছদ
  9. ফিচার
  10. বরিশাল বিভাগ
  11. বিনোদন
  12. মতামত
  13. ময়মনসিংহ বিভাগ
  14. রংপুর বিভাগ
  15. রাজনীতি

অতিরিক্ত পানি পান করিয়ে শিক্ষার্থীদের শাস্তি, তদন্ত কমিটি গঠন

প্রতিবেদক
BanglarKotha-বাংলারকথা
অক্টোবর ১২, ২০২২ ১২:১৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিনিধি, রবিশাল :
হোমওয়ার্ক না করায় তৃতীয় শ্রেণি পড়ুয়া ৬ শিক্ষার্থীকে জোর করে পানি খাওয়ানোর অভিযোগ উঠেছে বরিশাল কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অতিরিক্ত পানি পানে ক্লাসে অসুস্থ হয়ে পড়ে ৩ শিশু। এদের মধ্যে কয়েকজন শিশু ভয়ে স্কুলে যায়নি বুধবার। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা ক্লাসে ইন্টারনেট-ফেসবুক-ইউটিউব ব্যবহারসহ নানা অভিযোগ করেছেন শিক্ষকদের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন জেলা প্রশাসক। গত মঙ্গলবার কালেক্টরেট স্কুলে তৃতীয় শ্রেণির শিমুল শাখায় ইংরেজি ক্লাসে এ ঘটনা ঘটে। পরে অন্য দুই শিক্ষিকা অসুস্থ ওই শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে টিচার্স রুমে নিয়ে যায়।

নির্যাতনের শিকার শিশু আফসানের মা মিসেস আব্দুল হালিম বলেন, তার ছেলে গত সোমবার স্কুলে যায়নি। আগের দিনের পড়া সে জানে না। মঙ্গলবার ইংরেজী ক্লাসে হোমওয়ার্ক না আনার অজুহাতে ৬ শিশুকে জোর করে অতিরিক্ত পানি পান করিয়েছে শিক্ষক মনোয়ারুল ইসলাম মামুন। যতক্ষণ বমি না করেছে ততক্ষণ জোর করে পানি খাইয়েছে। এতে তার ছেলে আফসানসহ তিনজন বমি করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।

 

এদিকে, এ ঘটনায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের মামলা হওয়া উচিত বলে মনে করেন উপ-সচিব মো. আব্দুল হালিমের সহধর্মিণী। পানি পানে অসুস্থ হয়ে পড়া আরেক শিশু শাহরিয়ানের বাবা মাহমুদুন্নবী বলেন, অসুস্থতাসহ নানা কারণে একজন শিশুর হোমওয়ার্ক না-ও হতে পারে। তাই বলে শিশুদের জোর করে দুই বোতল পানি খাওয়ানো অমানবিক।

নির্যাতনের শিকার আরেক শিশু আয়ানের মা আবিদা সুলতানা (ওই স্কুলের সহকারী শিক্ষক) মুঠোফোনে বলেন, ক্লাসে হোমওয়ার্ক না আনায় তার ছেলেসহ অন্যদের অতিরিক্ত পানি খাইয়ে শাস্তি দিয়েছে একজন শিক্ষক।

এসব বিষয়ে কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর খোন্দকার অলিউল ইসলাম বলেন, শিশু নির্যাতনের ঘটনা দুঃখজনক। অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জবাব পেলে তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে জেলা প্রশাসন।

অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে শিক্ষক মনোয়ারুল ইসলাম মামুন বলেন, শিশুদের সাথে তিনি ফান করেছেন। বিষয়টি যে এতটা সিরিয়াস হয়ে যাবে তা বুঝতে পারেননি। এ ঘটনায় তিনি অনুতপ্ত। বিষয়টি ভুল হয়ে গেছে বলে স্বীকার করেন তিনি।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার বলেন, শিশু নির্যাতনের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দুঃখজনক। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সাথে অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সর্বশেষ - প্রচ্ছদ